জেলা 

প্রকৃতি ও গণিতের মেলবন্ধন: সন্তোষপুর শিশু শিক্ষা নিকেতনে জাতীয় গণিত দিবসের প্রাক-আলোচনা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি :প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৃষ্টি থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের বিশালতার পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে গণিত ও বিজ্ঞানের অমোঘ যুক্তি। গত রবিবার দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুর শিশু শিক্ষা নিকেতনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই কথাই উঠে এলো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের আলোচনায়। আগামী ২২শে ডিসেম্বর জাতীয় গণিত দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের ভীতি দূর করতে এবং এই বিষয়ের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে এদিন বিকেলে বিশেষ এক প্রাক-আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক নায়ীমুল হক এবং অনুসন্ধান সোসাইটির সম্পাদক ও বিশিষ্ট গণিতের শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল। শিক্ষক নায়ীমুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা যদি চোখ কান খোলা রেখে বিশ্ব থেকে মহাবিশ্বের যেকোনো ঘটনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি, তবে অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে দেখব কী নিখুঁত বৈজ্ঞানিক সফলতার সঙ্গে এসবের সৃষ্টি। কুদরতি ক্ষুদ্র পতঙ্গ থেকে শুরু করে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বৃহৎ ডাইনোসর, পাহাড়-পর্বত কিংবা সমুদ্র—যেদিকেই তাকানো যাক না কেন, বৈচিত্র্যময় এই কান্ডকারখানার সঙ্গে গণিতের যুক্তি জড়িয়ে আছে।” উদ্ভিদ, প্রাণী, আকাশ কিংবা বাতাসের মাঝে লুকিয়ে থাকা জ্যামিতিক প্রতিসাম্য ও ফিবোনাচ্চি সংখ্যার মতো জটিল গাণিতিক তত্ত্বকে তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় শিশুদের সামনে ব্যাখ্যা করেন।

অন্যতম বক্তা শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল ভারতের মহান গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজনের জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, রামানুজন কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র প্রকৃতির অন্তর্দৃষ্টি এবং নিজস্ব সাধনা দিয়ে গণিতের জটিল সব সমীকরণ সমাধান করেছিলেন। তাঁর জন্মদিনটিকেই দেশজুড়ে জাতীয় গণিত দিবস হিসেবে পালন করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক এবং আয়োজকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন গণিতকে কেবল পরীক্ষার খাতায় নম্বর তোলার মাধ্যম হিসেবে না ভাবে, একে ভালোবাসতে শেখে। এ দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে।

আলোচনায় দেশের জাতীয় শিক্ষানীতি-র প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে পাঠ্যপুস্তকের মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে বাস্তব জীবন ও প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে আনন্দময় শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতিতে গণিতের এই অন্বেষণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তাশক্তি ও বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যা এই শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য।

সভার শেষাংশে গণিত দিবস উদযাপনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এক বড় ঘোষণার কথা জানানো হয়। আগামী ২০শে ডিসেম্বর রবিবার সন্তোষপুর এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ প্রতিযোগিতা ও গণিত মডেল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতায় এডুকেশনাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি শাজাহান সাহেব এই বিশেষ কর্মসূচির কথা সভার সামনে তুলে ধরেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. পার্থসারথি দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আলমগীর ফকির এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী খাদেমুল ইসলাম। সামগ্রিকভাবে, সন্তোষপুর শিশু শিক্ষা নিকেতনের এই প্রাক-আলোচনা সভা ও আগামী দিনের এই কর্মসূচি খুদে পড়ুয়াদের গণিতকে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে এবং একে গভীরভাবে ভালোবাসতে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপস্থিত গুণীজনেরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ