কলকাতা 

‘আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে’ বিস্ফোরক দাবি তারান্নুমের! কলেজ থেকে বের হতেই গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ !

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : তেইশ ঘন্টা ধরে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে আটক থাকার পর শেষ পর্যন্ত সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদি তরন্নুম পদত্যাগ করে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন। তারান্নুমের দাবি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, তাঁকে জোর করে পদত্যাগ পত্র লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কাছে যথাযথ তদন্তের দাবি জানালেন তরন্নুম।

গত বুধবার থেকেই সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজে ছাত্রবিক্ষোভ চলছে। পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশের নীচে থাকায় এ বছর তাঁদের পরীক্ষায় বসতে না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের দাবি, ক্লাসই হত না কলেজে। এ বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ক্লাস চালু করেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ, অত সকালে মেট্রো পরিষেবা না থাকায় অনেকেই ক্লাসে যোগ দিতে পারেননি। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, তাঁদের উপস্থিতি সংক্রান্ত কোনও নথি কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সেমেস্টারের ফর্মপূরণ স্থগিত করেন কর্তৃপক্ষ। নতুন করে শুরু হয় বিক্ষোভ। উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখা হয় প্রায় ২৩ ঘণ্টা। শুক্রবার পুলিশের সহযোগিতায় নিজের ঘর থেকে বেরোতে পারেন মহম্মদি তরন্নুম। বেরিয়েই তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দু’দিন তাঁকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি জল, বিদ্যুৎসংযোগও ছিল না। তরন্নুম বলেন, “বার বার বলা হচ্ছে আমি বাম রাজনীতি করি। হ্যাঁ, করতাম। ২০১৬-র পর আমি সব রকম রাজনৈতিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।”

দীর্ঘ ঘেরাওয়ের পর তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি তরন্নুমের। পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি, ডিপিআই, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে। কলেজ ছাড়ার সময় বার বার তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, আমি পদত্যাগ করিনি।”

অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে যে ছ’জন শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ঘর থেকে বার করে দিয়ে তাঁকে আটকে রাখা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় দু’দিকের দরজা। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎসংযোগ। তরন্নুম বলেন, “অন্ধকারে পড়েছিলাম। আমার উপর অত্যাচার করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, আপনারা তদন্ত করে দেখুন। কলেজে কি সত্যিই স্বচ্ছ উপস্থিতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই? তদন্ত হওয়া দরকার। দিনের পর দিন যদি এ ভাবে শিক্ষকদের উপর আক্রমণ হয়, তা হলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়।”

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তরন্নুম। তাঁর অভিযোগ, দিনের পর দিন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যাচার করেছেন। প্রতি মুহূর্তে বাধা সৃষ্টি করতেন। তরন্নুম বলেন, “তাই আমি নিজে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছিলাম। কারণ চেয়েছিলাম, পরিবর্তন আসবে, নতুন সরকার আসবে, মানুষের জন্য কাজ করবে। এই কি নতুন সরকারের রূপ?”

প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তরন্নুম। যদিও পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকেই সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের সামনে গোলমালের আশঙ্কায় পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়িও রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল বাহিনী। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফেই এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা হয়নি।

জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টো পর্যন্ত পুলিশের বাহিনী ছিল কলেজের সামনে। তার পর সারারাত কয়েক জন পুলিশ কর্মী ছিলেন প্রহরায়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কলেজের উপাধ্যক্ষের তরফ থেকে ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেই ই-মেলেও তাঁকে উদ্ধার করার বিষয়ে কোনও অনুরোধ করা হয়নি। যদিও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখে। পাশাপাশি, মেডিক্যাল কলেজের একটি দল নিয়ে উপাধ্যক্ষের শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ দিকে তরন্নুম কলেজ ছাড়ার পরই ‘শুদ্ধিকরণ’ করছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁরা ধূপ জ্বালিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেন কলেজভবনে। এলএলএম প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মিলটন সরকার বলেন, “আমাদের কলেজ পাপমুক্ত হল, তাই ধূপ আর গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করলাম।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ