তৃণমূল থেকে এনসিপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে ২০ সাংসদের জবাবদিহি তলব করল সুপ্রিম কোর্ট!
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদারদের দলবদল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের করা সেই মামলার প্রেক্ষিতে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদকেই নোটিস দিল শীর্ষ আদালত। তাঁদের প্রত্যেককেই নিজেদের বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে। দু’সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানের ফলে কার্যত বিপাকে পড়ে গেল তৃণমূলের প্রতি কে নির্বাচিত এই কুড়িজন সাংসদ। সংবিধানের দশম তফসিল অনুসারে কোনভাবেই তাদের সাংসদ পথ ধরে রাখাটা সম্ভব হবে না। এখন দেখার বিষয় এই কুড়িজন সাংসদ সুপ্রিম কোর্টের শোকজের কি জবাব দেন?
২০ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের সাংসদপদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি হোক— এই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দাখিল করা এই সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন ফাইল করেন অভিষেক। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
গত জুলাই মাসেই এই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজ চেয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। অগস্টে ফের একই আর্জি নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘২০ জন মুখে বলছেন তাঁরা এনসিপিআই। অন্য দিকে, সংসদে তাঁরা যখন বক্তৃতা করছেন তখন তাঁদের নামের পাশে লেখা থাকছে এআইটিসি (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস)। এটা হতে পারে না।’’
অগস্টে সংসদের দশম তফসিল কার্যকর করে এই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে ফের সরব হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে যান সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং প্রতিমা মণ্ডল। সেই সময় অভিষেক বলেছিলেন, ‘‘স্পিকার যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাংসদপদ খারিজের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করেন, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। আইন এবং প্রযোজ্য বিচারবিভাগীয় নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি স্পিকার এই আবেদনগুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেন, তা হলে আমি বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হব এবং আদালতের হস্তক্ষেপ চাইব।’’
অভিষেকের এই আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিকে খুব একটা আমল দিতে চাননি এনসিপিআই-তে নাম লেখানো বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘‘লোকসভার বিষয়ে স্পিকারই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। অন্য কেউ তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। যিনি এ সব বলছেন, তাঁর সংসদীয় রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত।’’
অভিষেক তথা তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য, সাংসদেরা নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন অপর একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা বেআইনি। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মঙ্গলবার তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “স্পিকার এই ২০ জনকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন, না অথচ আসন বণ্টন করে দিলেন। আমাদের আগে তাঁদের বসতে দেওয়া হল। এ বার এই ২০ জন জবাব দিক।”

