অভিনব উপায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস,এবারও বিজেপি শাসিত ছত্তীসগঢ়ে! কীভাবে সত্য প্রকাশ পেল?
বাংলার জনরব ডেস্ক : আবারো প্রশ্নপত্র ফাঁস। এবারও বিজেপি শাসিত ছত্তীসগঢ়ে। ওই রাজ্যের ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিট তত্ত্বের স্নাতকের স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অভিনব পদ্ধতিতে প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত আছেন।তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত অধ্যাপক খুবই সন্তর্পণে মুখবন্ধ খামে সুচ দিয়ে ছিদ্র করেন। তার পরে সেই ছিদ্র দিয়ে এনডোস্কোপি করার পাতলা ক্যামেরা ঢুকিয়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলেন!
ছত্তীসগঢ়ের ইন্দিরা গাঁধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইজিকেভি) কীটতত্ত্বের(এন্টোমোলজি) স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরীক্ষার আগেই পরীক্ষার্থীদের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরতে শুরু করে ওই প্রশ্নপত্র। গত ২০ অগস্ট ওই পরীক্ষাটি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ২৮টি কলেজে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়। কী ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত ওই অধ্যাপক-সহ ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে। কী ভাবে গোপনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুললেন ওই অধ্যাপক? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার তিন দিন আগে, ১৭ অগস্ট রায়পুরের জোরায় কৃষি কলেজে যান অভিযুক্ত। তাঁর কলেজের উত্তরপত্র জমা দিতেই গিয়েছিলেন তিনি। উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। শুধু কীটতত্ত্ব নয়, অন্য বিষয়ের প্রশ্নপত্রও ছিল ওই অধ্যাপকের কাছে। কলেজে ফিরে বাকি সব বিষয়ের প্রশ্নপত্র জমা দিলেও কীটতত্ত্বের খামটি বাড়ি নিয়ে চলে যান।
কী ভাবে মুখবন্ধ খামের মধ্যে থেকে প্রশ্নপত্র বার করবেন, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন অভিযুক্ত অধ্যাপক। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার পথে ওই অধ্যাপক এনডোস্কোপি করার একটি পাতলা ক্যামেরা কেনেন। তার পরে বাড়ি ফিরে সুচের মাধ্যমে ওই মুখবন্ধ খামে ছোট্ট ছিদ্র করেন তিনি। সেই ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে ক্যামেরাটি ঢুকিয়ে দেন। ক্যামেরার পর্দায় ভেসে ওঠা প্রশ্নপত্রগুলি সাজিয়ে নিয়ে বিক্রি করেন পড়ুয়াদের কাছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এনডোস্কোপিক ক্যামেরা দিয়ে তোলা প্রশ্নপত্রের ছবি ওই অধ্যাপক পরীক্ষার আগের দিন অর্থাৎ ১৯ অগস্ট তিন পড়ুয়ার কাছে ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। পরে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ওই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে অন্য পড়ুয়াদের মধ্যেও।
ডিসিপি (সাইবার এবং অপরাধ) স্মৃতিক রাজনালা জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অধ্যাপক ছাড়াও রয়েছেন পাঁচ পড়ুয়া। কী ভাবে অভিযুক্তদের সন্ধান পেল পুলিশ? স্মৃতিক জানিয়েছেন, পুলিশের সাইবার টিম ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র, স্ক্রিনশট, সমাজমাধ্যমের পোস্ট, মেসেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। রায়পুর, কবিরধাম, বিলাসপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় তদন্তে আলাদা আলাদা পুলিশের দল পাঠানো হয়। প্রতিটি দলে ১০০ জনের বেশি পুলিশকর্মী ছিলেন। কোথা থেকে এই প্রশ্নপত্র ছড়াল, তা খুঁজতে গিয়ে দুর্গের এক কলেজছাত্র অনুজ মিঞ্জলকে শনাক্ত করেন তদন্তকারী। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের হদিস মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।
ধৃত ছাত্রের সূত্র ধরে দুর্গের ভারতীয় কৃষি কলেজের অধ্যাপক যোগেশ সোনকেসারিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধাপে ধাপে অজয় নায়েক, ত্রিদেব পটেল, মিতিন পান্ডে, আদিত্য সাহুকে ধরে তারা। আরও দুই সন্দেহভাজনের খোঁজ চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের পরীক্ষা সেলের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানী তথা অধ্যাপক এনআর রাঙ্গারে প্রথম এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, পরীক্ষা দিন অর্থাৎ, ২০ অগস্ট সকাল ৮টা ৪১ মিনিটে একটি কলেজে প্রশ্নফাঁস হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কিত একটি ইমেল আসে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কর্তাদের কাছেও একই বার্তা পাঠানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অধ্যাপকের কীর্তি ফাঁস করল।

