দেশ 

ছর্‌রা-কাণ্ডে কেন এফআইআর হয়নি? প্রতিবাদে দিল্লি পুলিশের ডিসি-র দফতরের সামনে ধর্নায় রাহুল!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে নাটকীয় পরিস্থিতি! ছর্‌রা বা পেলেট ছোড়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতে না-চাওয়ায় পুলিশ আধিকারিকের অফিসের বাইরে ধর্নায় বসলেন রাহুল গাঁধী।

শুক্রবার বেলায় হঠাৎই দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভে শামিল হয়ে ছর্‌রায় আক্রান্ত হওয়া সাহিল লোচাব। রাহুল হঠাৎ থানায় চলে আসায় হতচকিত হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকেরা। গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিযানের দিন যে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের উপর ছর্‌রা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে চান রাহুলেরা।

রাহুলের সঙ্গে থাকা সাহিল এফআইআর দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ তার অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ। কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হচ্ছে না, তা জানতে চান রাহুল। তার পরেই দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি)-এর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা সংলগ্ন অফিসের সামনে ধর্নায় বসেন রাহুল। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন, রাহুল প্রথমে মন্দির মার্গ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে অভিযোগ না-নেওয়ায় তিনি ডিসিপি-র সঙ্গে দেখা করতে যান। রাহুল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের না-হলে তিনি ধর্না চালিয়ে যাবেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রথমে ১৪ অগস্ট, পরে ১৭ অগস্ট ছর্‌রা-কাণ্ড নিয়ে সাহিল অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। শুক্রবার সেই সাহিলকে নিয়েই থানায় যান রাহুল।

ছর্‌রা বন্দুকের গুলিতে মোট পাঁচ জন জখম হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল। তাঁরা হলেন বছর পঁচিশের শেখ ইরশাদ মনসুরি, ৩২ বছরের নূতন টোপ্পো, ২৫ বছরের প্রশান্ত সিংহ, ১৯ বছরের সাহিল লোচাব এবং এক ইংরেজি পত্রিকার রিপোর্টার। পরে জানা যায়, ছর্‌রা গুলিতে জখম হয়েছিলেন অন্তত ১০ জন। প্রত্যেকের নাম-পরিচয় অবশ্য এখনও জানা যায়নি।

ছর্‌রা গুলি প্রাণঘাতী না-হলেও শরীরে ছোট ছোট ক্ষত সৃষ্টি করে। এই গুলি কারও চোখে বিঁধলে তার দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। ২০১০ সালে কাশ্মীরে বিদ্রোহীদের দমন করার জন্য ছর্‌রা গুলি ছুড়েছিল বাহিনী। তৎকালীন রাজ্য সরকার পরে তা বন্ধ করে দেয়। ২০১৬ সালে জঙ্গি সংগঠনের প্রচারক বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পরে কাশ্মীর উত্তপ্ত হলে আবার ছররা গুলি ছোড়া হয়। এ বার দিল্লিতে প্রতিবাদীদের লক্ষ্য করে তা ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ