হাওড়ার ঝিংরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
গৌরাঙ্গ সরখেল: হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর চক্রের অন্তর্গত ঝিংরা স্পেশ্যাল ক্যাডার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নজিরবিহীন ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। ১৫ই আগস্ট থেকে ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপচে পড়েছিল সাধারণ মানুষের ভিড় ও উন্মাদনা। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই স্তরের আয়োজন ও নাট্য পরিবেশনা কার্যত বিরল বলে মন্তব্য করেছেন উপস্থিত গুণীজনেরা।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৫ই আগস্ট সকালে এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর যথাবিহিত পতাকা উত্তোলন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দিন, ১৬ই আগস্ট পড়ুয়াদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় অঙ্কন প্রতিযোগিতা।
সমাপ্তি দিবস অর্থাৎ ১৭ই আগস্ট ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় এক মনাজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হয়। দেশাত্মবোধক নাচ ও আবৃত্তির পাশাপাশি খুদে পড়ুয়ারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলে বেশ কিছু সামাজিক ও দেশাত্মবোধক নাটক। যার মধ্যে “আমরা কতটা স্বাধীন”, “নারী স্বাধীনতা”, “কার্গিল বিজয়”, “শহীদ ক্ষুদিরাম” এবং “স্বপ্নপূরণ ও বাস্তবতা”-র মতো মননশীল নাটকগুলি দর্শকদের বিশেষভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশিত দেশাত্মবোধক নাটক এবং ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর এ পি জে আবদুল কালাম স্যারের জীবনীভিত্তিক প্রদর্শন উপস্থিত সকলের ভূয়সী প্রশংসা কুড়োয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পড়ুয়ারা একক ও দলীয়ভাবে যোগা ও জিমন্যাস্টিকস প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দেয়। এদিন এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের কৃতী শিক্ষার্থীদের মঞ্চে বিশেষ সংবর্ধনাও জ্ঞাপন করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সফল রূপায়ণে মেন্টর হিসাবে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিল মনোয়ার, সহকারী শিক্ষিকা লাবনী পাল ও সহকারী শিক্ষক জ্যোতির্ময় চ্যাটার্জি। এছাড়াও পড়ুয়াদের যোগা ও জিমন্যাস্টিক প্রশিক্ষক তনুশ্রী জানা ও দেবব্রত দে এবং প্রাক্তন ছাত্রী সুমনা নন্দী, অরণ্যা দে ও মনামী চ্যাটার্জীর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। অনুষ্ঠানটিকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক-অভিভাবিকা মণ্ডলী সহ রূপপুর কিশলয় সংঘ, সোসাইটি ফর হিউম্যান এন্ড নেশান এবং ঝিংরা সবুজ বাংলা অ্যাসোসিয়েশন সক্রিয়ভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।গৌরবোজ্জ্বল এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস লিয়াকত আলী, বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী ডক্টর কিরনময় বারুই, পঞ্চায়েত প্রধান শেখ ইসমাইল সাহেব, গণমাধ্যমের বিশিষ্ট কর্মকর্তা আখের আলী সরদার, শিক্ষক সাহাবুল ইসলাম গাজী, প্রফেসর চৈতালি পাল, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপস কোলে, গৌতম নন্দী, মাননীয় হাসান সাহেব ও মাননীয় জুবের হাসান সহ এলাকার বহু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। বিদ্যালয়ের এই অভিনব প্রয়াসকে আগত অতিথিবৃন্দ ও দর্শকবৃন্দ মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সমস্ত গুণীজন, সহযোগী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে ঝিংরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লাবনী পাল ও জ্যোতির্ময় চ্যাটার্জী।

