ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের রাজ্যের সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট
জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল হাই কোর্ট। গত ১৪ মে রাজ্য সরকার জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ২০১১ সাল থেকে তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্য অনগ্রসর শ্রেণির যে সব শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করা হবে। কোনও শংসাপত্র ‘ভুয়ো’ প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হতে পারে বলেও জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির উপরে এ বার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
রাজ্যের অন্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) শংসাপত্র নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই জটিলতা চলে আসছে। পূর্বতন সরকারের আমল থেকেই এই বিতর্ক চলে আসছে। এরই মধ্যে ওবিসি শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের তরফে জানানো হয়, ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যত জাতিগত শংসাপত্র (ওবিসি-সহ) জারি হয়েছে, তা পুনরায় যাচাই করা হবে। ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা হয়। অভিযোগ, আইন মেনে ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়নি।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, এত জনের শংসাপত্র এ ভাবে বাতিল করার ক্ষমতা নেই রাজ্যের। যদিও অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র আদালতে জানান, রাজ্য সরকার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ অন্য নথি এবং জাতিগত পারিবারিক বিষয়কে যাচাই করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ এ অবস্থায় রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তির উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আপাতত ওই বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে রাজ্যের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও অভিযোগ জমা পড়লে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন জেলার আধিকারিকেরা।

