আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুইসাইড নোটে চাঞ্চল্যকর তথ্য! বড় আক্ষেপ? আর কী আছে?
বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ উদ্ধারের পর তার দেহের কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেই সুইসাইড ভোটে তিনি লিখেছেন আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় রাজনীতিতে আসাটাই আমার ভুল হয়েছিল। ওই চিঠিতে তিনি আরো পরামর্শ দিয়েছেন তার পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেছেন তারা যেন কেউ রাজনীতির সঙ্গে আর যুক্ত না হন।
রামপুরহাটের পাঁচ বারের বিধায়ক আশিস রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তাঁকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
আশিস সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘‘ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।’’
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি-তে (টিআরডিএ) তাঁর তেমন কোনও ক্ষমতা ছিল না, চিঠিতে দাবি করেছেন আশিস। অভিযোগ, তাঁকে ছোট করার জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়েই আশিসের উপলব্ধি রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছে। চিঠিতে লিখেছেন, ‘‘টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।’’
শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আশিস। মৃত্যুর আগে লেখা চিঠিতে ছাত্রছাত্রীদেরও স্মরণ করেছেন প্রবীণ নেতা। লিখেছেন, ‘‘সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। কোনও দিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। স্পেশাল ক্লাস নিয়েছি। ছাত্রদের অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি।’’ এর পর পরিবারের সদস্যদের নাম করে করে তাঁদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। শেষে লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। চিঠিতে রাজনীতিতে যুক্ত কারও নাম উল্লেখ করেননি আশিস। সরাসরি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেননি। কে বা কারা তাঁকে অপমান করার চেষ্টা করেছেন, তা-ও খোলসা করেননি।
আশিস ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মমতার মন্ত্রিসভাতেও ঠাঁই পেয়েছিলেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভায় ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২২ সালে রামপুরহাটের বগটুইতে গণহত্যার ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন আশিস। তবে এলাকায় নিজের এলাকায় ভোট সম্পর্কে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ২০২৬-এও তাই তাঁকেই টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। বিজেপি প্রার্থীর কাছে আশিস হেরে যান ২৪ হাজারের বেশি ভোটে। তার পর থেকে রাজনীতিতে তাঁকে আর তেমন সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। সুইসাইড নোটটি তাঁরই লেখা কি না, কী কারণে কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

