দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতাল ছাড়েননি সোনমের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য!
দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও গুরুগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরে বাধা দেওয়া হয়েছিল সোনম ওয়াংচুককে। দিল্লির সফদরজং সরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বয়ং সোনমই। শুক্রবার রাতে তাঁর ইউটিউব অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে সফদরজং হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় সোনমের সঙ্গে তর্কবিতর্ক জুড়ে দিয়েছেন হাসপাতালেরই নিরাপত্তারক্ষী। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে একটি ভিডিয়ো করে সোনম অভিযোগ করেন যে, তাঁকে হাসপাতাল চত্বরটি ছেড়ে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের করিডর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নীল শার্ট ও সাদা প্যান্ট পরা সোনম পুলিশকে বলছেন, ‘‘ওদের আমাকে গ্রেফতার করতে বলুন। আমি একজন স্বাধীন নাগরিক। আমার অনশনের ২৫তম দিনে আপনারা আমাকে তিন ঘণ্টা আটকে রেখেছেন। সবাই আমাকে হেনস্থা করছেন। মানসিক চাপে যদি আমি মারা যাই, তার দায় প্রশাসনের থাকবে।’’ এই কথা বলে হাসপাতালের প্রস্থান পথের দিকে এগিয়ে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও। তাঁকেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভদ্র আচরণ করার অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছে।
সোনমের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে পুলিশকর্মী জানান, তাঁর সঙ্গে হয়রানি করার কোনও অভিপ্রায় নেই পুলিশের। এই জবাবে আরও ক্ষুব্ধ দেখায় সমাজসৈনিক সোনমকে। সোনমকে ঘিরে থাকা হাসপাতালের এক কর্মী জানান, সোনমকে স্থানান্তরের জন্য হাই কোর্টের আদেশ তাঁরা পাননি। এতেই মেজাজ সপ্তমে চড়ে যায় সোনমের। তিনি ও তাঁর স্ত্রী একযোগে জানান, আদালতের নির্দেশ হাসপাতাল ছাড়া বিশ্বের সকলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। ডিজিটাল আদেশ সর্বত্র প্রচারিত। সোনমের দাবি, আদেশটি সম্ভবত দুপুর ২টোয় জারি করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল। ক্ষুদ্ধ সোনম হাসপাতালের কর্মীদের কসাই বলেও উল্লেখ করেন।
হাসপাতালের বিছানা থেকে রেকর্ড করা ভিডিয়োয় সোনমের দাবি, তাঁকে আটকে রাখার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল। হাসপাতালে উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। তিনি জানান, তিন ঘণ্টা আমাদের আটকে রেখে জিনিসপত্র গোছানোর পরও তাঁকে শারীরিক প্রতিরোধ ও লড়াই করতে হয়েছিল। ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সফদরজং কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভিডিয়োটি হাই কোর্টের লিখিত আদেশ পাওয়ার আগেই রেকর্ড করা হয়েছিল। সে সময় সোনম গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতাল ছাড়ার জন্য জোর দিচ্ছিলেন।
গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত সোনমকে চিকিৎসকের পরামর্শ ও দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে ১৮ জুলাই সকালে পুলিশ সফদরজংয়ে নিয়ে যায়। এর পর ২১ জুলাই দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

