পুলিশের সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও ছাত্র যুব পৌঁছে গেল সংসদের সামনে, নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বন্ধ হল সংসদের প্রধান ফটক
বাংলার জনরব ডেস্ক : দিল্লী পুলিশের সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও ছাত্র যুবক পৌঁছে গেল সংসদ ভবনের কাছে। আর ছাত্র সমাজের এই আগ্রাসটি মনোভাবের কাছে এতটাই হার মেরেছে মোদি সরকার যে শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিতে হলো। যা ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটা নজীর বিহীন ঘটনা বলে চিহ্নিত হবে। ছাত্র যুবদের এই আগ্রাসী মনোভাব সংসদের মধ্যে তার ছায়া পড়েছিল। সংসদের ভিতরে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীরা রীতিমতো ততস্থ হয়ে পড়েন সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত রয়েছেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।
বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের বাসে চাপিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই মতো সকালে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে মিছিল বার হয়। যদিও এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃষ্টির মধ্যে বর্ষাতি পরেই মিছিলে শামিল হন অনেকে। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং ভারতের সংবিধান। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাঁদের অধিকাংশই ছাত্র-যুব) সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কেও পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তবে পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছে। সিজেপি তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করার আর্জি জানিয়েছে দেশের সব সাংসদকে। সকালে সিজেপি সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র সাংসদ তথা অখিলেশ যাদবের পত্নী ডিম্পল যাদব। এসপি-র দাবি, ডিম্পল এবং দলের অন্য নেতা-কর্মীদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
অন্য দিকে, সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছে সরকার। সোমবার সিজেপি-র সংসদ ভবন অভিযানের মধ্যেই সরকারের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছেন।
সিজেপি-র তরফে কেন্দ্রের কাছে মূলত তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলি হল, সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিতে হবে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে এবং যে নিট পরীক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে, তাঁদের এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

