কলকাতা 

কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে অভিষেকের উপর থেকে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করার হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

শেয়ার করুন

আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সতর্ক করে বললেন, অবিলম্বে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা না-করলে আদালত তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেবে। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারিতে আর বাধা থাকবে না সিআইডি-র। অভিষেকের আইনজীবীর যুক্তি গ্রাহ্যই করেনি আদালত।

নির্বাচনী প্রচারপর্বে ডিজে সংক্রান্ত মন্তব্যের কারণে অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সিআইডি তার তদন্ত করছে। এই মামলায় তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা। আদালত জানিয়েছিল, অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে চান না অভিষেক। তাঁর যুক্তি, ওই কণ্ঠস্বর যে তাঁরই তা তিনি অস্বীকার করেননি। তাই নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা নেই।

গত বুধবার বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। আদালত তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান দ্বিতীয় বারও। বুধবার সিআইডি আধিকারিকেরা তাঁর জন্য দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন। আগামী ১৮ জুলাই ফের তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই সংক্রান্ত মামলা শুক্রবার হাই কোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যকে ভর্ৎসনা করে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করব। পুলিশের নোটিসে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে মামলা খারিজ করে জরিমানা করব।’’ অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘‘রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ কি না, উত্তর দিন। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।’’

অভিষেকের আইনজীবী দু’মিনিট বলার সময় চান। তাঁর সওয়াল, ‘‘আমার মক্কেল স্বীকার করছেন সেটি তাঁর কণ্ঠস্বর। গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমার মক্কেল মন্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করছেন। আমি একবারও দাবি করিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে রক্ষাকবচ রয়েছে। এই নির্দেশ নিয়ে আমার দু’টি বক্তব্য রয়েছে। এক, নির্দেশ দেওয়ার সময় আমার মক্কেলের বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই, ওই নির্দেশ জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’’

বিচারপতি জানান, ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ ধারা অনুযায়ী অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে সহযোগিতা করাই ছিল তার শর্ত। সেই কারণেই ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রটেকশন’ দেওয়া হয়েছিল সাংসদকে। একই বিষয়ে বার বার মামলা করার জন্যেও অভিষেকের আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ