বিরোধীদলের মর্যাদা হারাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস? বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে তদন্তে সিআইডি!
বাংলার জনরব ডেস্ক : বিরোধীদলের মর্যাদা কী তৃণমূল কংগ্রেস পাবেনা এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে? কেন এটা হল? অথচ আগামী ২২ শে জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে! ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূল কংগ্রেস এখনো পর্যন্ত বিরোধী দলের মর্যাদা পেল না! বলা হচ্ছে খানিকটা টেকনিক্যাল কারণে এই ঘটনাটা ঘটেছে! জানা গেছে ভোটের ফল ঘোষণার দুদিন পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি দিয়ে পরিশোধীয় দলের নেতা হিসেবে শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় এবং সহ নেতা হিসাবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে এবং চিফ হুইপ হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের অফিসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্পিকার সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দেয় সমস্ত বিধায়কদের বৈঠক ডেকে তাদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমা দেওয়ার জন্য।
সেইমতো পরবর্তীকালে বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমা পড়ে বিধানসভাতে। এই স্বাক্ষর জাল এই অভিযোগ করে স্পিকার বিষয়টির সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। এখন সিআইডি তদন্ত চলছে, যদি সিআইডি তদন্তে বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল প্রমাণিত হয় তাহলে অনেক বিধায়কের বিধায়ক পদ হয়ে যেতে পারে। তারপর কি হতে পারে? আসলে নিয়মের অনেক কিছু থাকলেও সবকিছু নিয়মমাফিক সব সময় চলে না! পশ্চিমবাংলা তথা কেন্দ্রীয় স্তরেও দেখা গেছে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চিঠি লিখে বিরোধী দলনেতা ও তাদের পদাধিকারীদের নাম পাঠালে সেটা স্বাভাবিকভাবেই স্পিকাররা মেনে নিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের স্পিকার সেটা মানতে চাইছেন না! ফলে আগামী দিনে কি হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়? যদি বিধায়কদের সই জাল কাণ্ড প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে স্পিকার যদি করা অবস্থান নেন তাহলে অনেক বিধায়কের পদখারিজ হতে পারে। যদি তা না হয় যদি সব বিধায়কের সই সঠিক থাকে তাহলে এতদিন বিলম্ব কেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে? আসলে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই রাজ্যে প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রাসঙ্গিক গড়ে তোলার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কথা ঠিকই যদি বিধায়কদের সদস্য পদ খারিজ হয় তাহলে তারা আবারো আদালতের দ্বারস্থ হবে এর ফলে প্রচারের আলোয় থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস!
তৃণমূল পরিষদীয় দলের অভিযোগ, নতুন সরকার গঠনের পর পেরিয়ে গিয়েছে বেশ কিছুদিন। তা সত্ত্বেও বিধানসভায় বিরোধী পক্ষকে চরম অবহেলা করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতাকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির চিঠি দেওয়া হয়নি। এমনকী, পরিষদীয় দলনেতা বা বিরোধীদের বসার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ঘরও বরাদ্দ করেনি বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। সরাসরি তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। শুধু বর্তমান ঘটনাই নয়, গত দেড় দশকের প্রশাসনিক নথি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতীতেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে জাল সই ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাঁর দাবি, শুধু রাজ্য নয়, দেশের কোনও বিধানসভাতেই এ ধরনের অভিযোগের নজির নেই। তাই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন তিনি।

