বাংলায় গুন্ডা রাজ চলছে, আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী খুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া রাহুলের
আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী খুনে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বাংলায় গুন্ডারাজ চলছে বলে অভিযোগ করলেন তিনি। তৃণমূল জামানায় ধমকানো, খুন তৃণমূলের চরিত্র হয়ে উঠছে বলে কড়া সমালোচনা করেছেন রাহুল। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে রাহুলের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে। মৃতের পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের দাবি তুলেছেন তিনি।
আসনসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে কংগ্রেস অভিযোগ তোলে ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে তাঁকে খুন করা হয়েছে। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করেছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ, রবিবার রাহুল টুইটে লেখেন, ‘তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের খুনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। পশ্চিমবাংলায় গুন্ডারাজ চলছে। ধমকানো, মারধর, খুন তৃণমূলের চরিত্র হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের রাজনীতি কখনও হিংসাকে সমর্থন করে না। আমরাও আমাদের কর্মীদের হারিয়েছি, তবুও আমরা সর্বদা অহিংসা ও সংবিধানের পথ বেছে নিয়েছি। এটাই আমাদের ঐতিহ্য।’ তিনি আরও লেখেন, ‘সকল অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেবদীপের পরিবারকে পূর্ণ সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।’
তবে কংগ্রেসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় খুনে রাজনৈতিক হিংসার তত্ব উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ যোগ নেই। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনও রাজনৈতিক সংঘাত নয়। বরং ব্যক্তিগত বচসা থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। কিন্তু কেন এ কথা বলছে পুলিশ?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় পরিবার-সহ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ভগৎ সিং মোড়ের কাছে গাড়ি পার্কিং নিয়ে তাঁর সঙ্গে কয়েকজন যুবকের বচসা বাধে। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তরা তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। এরপর পাঁচপুলিয়ার কাছে আরও একজন মোটরবাইক চালকের তাঁর সঙ্গে বচসা হয়। সেখানেও হাতাহাতি হয়। অভিযুক্তরা তাঁর পিছু নেয়। কমপ্লেক্সের সামনে দেবদীপের উপর চড়াও হয় তার। তাঁকে মারধর করে। সেই সময় দেবদীপ অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান। মৃত কংগ্রেসকর্মীর পরিবার প্রথমে ভেবেছিল তিনি মদের ঘোরে অচৈতন্য হয়ে আছেন। তাই তাঁরা তাঁকে ঘরে নিয়ে যান। পরের দিন দুপর পর্যন্ত দেবদীপের জ্ঞান না ফেরায় তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।”

