কলকাতা 

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ, হাইকোর্টে মামলা দায়ের তৃণমূলের, চরম অস্বস্তিতে, জ্ঞানেশ কুমার!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক আইপিএস পরমার স্মিথ পরসোত্তমদাস। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু অভিযোগই তিনি করেননি বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা লজে গোপন বৈঠক করেছেন বলে, অভিযোগ করার পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এক কথায় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রীতিমতো ধাক্কা খেলেন বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই রাজ্যে যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না তা বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। রাজ্যের বাইরে থেকে আনা ওই আইপিএস অফিসার দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন তবে তিনি সাগরিকা লজে কুড়ি এপ্রিল বৈঠক করেছেন মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে বলে তৃণমূলের অভিযোগ।

তৃণমূলের অভিযোগ, আইপিএস পরমার স্মিথ পরসোত্তমদাস মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা টুরিস্ট লজে বসে গোপন বৈঠক করেছেন। দাবি, গত ২০ এপ্রিল নিয়ম ভেঙে ওই লজে ছিলেন আইপিএস। সে দিনই বৈঠক হয়। এই বৈঠকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তৃণমূল কিছু দিন আগে প্রকাশ করেছিল। এ বার মামলাও করা হল।

Advertisement

রবিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে রোড শো করেছিলেন অভিষেক। কর্মসূচি শেষে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভেবেছিল চুপিচুপি মিটিং করবে আর কেউ জানবে না। আরে ডায়মন্ড হারবারের আকাশে বাতাসে লতায় পাতায় আমি আছি। যে পুলিশ অবজার্ভার এটা করেছে, তাকে টানতে টানতে কোর্টে নিয়ে যাব।’’ তার পরেই হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হল। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, আইপিএস পরমার স্মিথ পরসোত্তমদাসকে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পুলিশ পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। এই পদ কঠোর ভাবে নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন। তা সত্ত্বেও তিনি মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর দাসের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন। ওই এলাকা তাঁর দায়িত্বে রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভার দায়িত্বে আছেন পরসোত্তমদাস। সরকারি ভাবে আলিপুরের আইপিএস মেসে তাঁর থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিয়ম ভেঙে ২০ এপ্রিল তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা টুরিস্ট লজে ছিলেন, যেখানে বৈঠকটি হয়েছে। মামলাকারীর কাছে বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ আছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ পর্যবেক্ষকের এই আচরণ প্রশাসনিক নিয়মবিরুদ্ধ এবং নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সততার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তৃণমূল। অভিযোগ, এতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর থেকে মানুষের আস্থা চলে যাবে। কারণ নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের কাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ, গোপন বৈঠক অপরাধ। এতে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি করবেন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবাংলার জনগণ। তিনি যদি নিরপেক্ষ হন তিনি যদি বিজেপির স্বার্থে কাজ না করে তাহলে এটা পরিষ্কার করতে হবে। এখনই ওই অভিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষককে হয় সাসপেন্ড করা আর না হলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। এখন দেখার বিষয় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হওয়ার পর এবার জ্ঞানেশ কুমারের টনক নড়ে কিনা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ