আন্তর্জাতিক 

ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী লারিজানি জানাল ইরান!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের নিরাপত্তার প্রধান উপদেষ্টা আলী লারিজানি। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বিবৃতি জারি করে লারিজানির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেই বিবৃতিতে লারিজানিকে ‘শহিদ’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। লারিজানির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। একই সঙ্গে লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

শুধু লারিজানি নন, ইসরায়েলি হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। তাঁদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে কাউন্সিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের অগ্রগতি এবং ইসলামি বিপ্লবের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন লারিজানি। দেশ সেবার জন্য এই মৃত্যু তাঁর দীর্ঘ দিনের আকাঙ্খার পূরণ করেছে।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) ইসরায়েলের তরফে দাবি করা হয়, বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন লারিজানি! সংবাদমাধ্যম আল জাজ়িরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ় দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সেই সময় ইজ়রায়েলের দাবি উড়িয়ে দেয়। টাইমস অফ ইজ়রায়েল, তাদের প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল বাহিনী। তাদের নিশানায় ছিলেন লারিজানি! তিনি ছাড়াও বাসিজ রেজিসট্যান্স ফোর্স-এর প্রধান গোলামরেজ়জা সোলেইমানিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল ইজ়রায়েল। যদিও এ ব্যাপারে ইরান এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বার বার লারিজানিকে ‘দুর্বৃত্তদের প্রধান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য। তবে এ-ও জানান, কাজটা সহজ নয়। নেতানিয়াহুর কথায়, ‘‘এক বারে ঘটবে না। সহজ হবে না। তবে আমরা যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারি তবে ইরানের মানুষ তাদের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে পারবে।’’

দিন কয়েক আগেই এক্স হ্যান্ডলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়া সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন লারিজানি। তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘আপনার থেকেও বড়রা ইরানকে নির্মূল করতে পারেনি। নিজেরটা দেখুন, নাহলে আপনাকেই নির্মূল করে দেওয়া হবে।’’ সেই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার লারিজানি ঘোষণা করেন, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সমস্ত মুসলিম দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। তার আগেই তাঁর মাথার দাম ঠিক করে রেখেছিল আমেরিকা। এ সবের মধ্যেই মঙ্গলবার ইজ়রায়েলি হামলায় মৃত্যু হল ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের।

লেফটেন্যান্ট লারিজানি ছিলেন সদ্যনিয়ত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোরের প্রাক্তন কমান্ডারও ছিলেন। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সচিব পদেও ছিলেন তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ