অনুসন্ধানের আয়োজনে বিজ্ঞানী আসহাদুল ইসলাম:কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এক শক্তিশালী হাতিয়ার , প্রয়োজন নীতিনিষ্ঠ মানবিক ব্যবহার
অনুসন্ধানের আয়োজনে বিজ্ঞানী আসহাদুল ইসলাম
*কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এক শক্তিশালী হাতিয়ার , প্রয়োজন নীতিনিষ্ঠ মানবিক ব্যবহার*
টানটান উত্তেজনায় গোটা বিশ্ব তাকিয়ে– আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো কি কি পরিবর্তন আনতে চলেছে পৃথিবীতে তথা মানব সমাজে। প্রায় প্রতিদিন নিত্য নতুন ভঙ্গিমা নিয়ে সে হাজির হচ্ছে আমাদের মধ্যে। এক অভাবনীয় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা। অবশ্যই এ এক বিজ্ঞানের অসামান্য জয়যাত্রা, কিন্তু অন্যদিকে আছে এক অজানা আশঙ্কা।

এরকমই এক প্রেক্ষাপটকে বুঝতে আমাদের রাজ্যের বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ‘কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা আমাদের জন্য উপকারী না অপকারী’ – এরকম এক শীর্ষক আলোচনায় গত শনিবার অনলাইনে অংশগ্রহণ করেছিল প্রায় ২৬টি বিদ্যালয়ের অসংখ্য পড়ুয়া। অনুসন্ধান সোসাইটি আয়োজিত এই আলোচনায় ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে উঠে আসা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড আসহাদুল ইসলাম ও শুভজিৎ মাইতি।
আগামী দিনে পৃথিবীর ওপর AI-এর যে প্রভাব পড়তে পারে, সে সম্পর্কে তাঁরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো ডাক্তারদের আগেই বলে দেবে শরীরে কোন রোগ দানা বাঁধছে। এমনকি রোবোটিক সার্জারি এতটাই নিখুঁত হবে যে হিউম্যান এরর শূন্যে নেমে আসবে। অথচ এই AI সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি সিস্টেম তৈরি করা, যা মানুষের মতো যুক্তি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা রাখবে। মূলত জটিল গণনা সহজ করা এবং মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের পরিপূরক হিসেবে একটি ‘স্মার্ট মেশিন’ তৈরি করাই ছিল বিজ্ঞানীদের মুখ্য লক্ষ্য।
মানুষের বুদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধি মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, উভয়ের মধ্যেই তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্যাটার্ন চেনার মিল রয়েছে। তবে পার্থক্য হলো—মানুষের বুদ্ধি আবেগ, বিবেক এবং অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, AI সম্পূর্ণভাবে ডেটা এবং গাণিতিক লজিকের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। মানুষের মতো ‘Common Sense’ AI-এর নেই।
আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী মানুষকেও পরিচালিত করবে? এর উত্তরে বিজ্ঞানী আসহাদুল ইসলাম বলেন, AI সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে এটি মানুষের পছন্দ-অপছন্দ বিশ্লেষণ করে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিন্তু আমাদেরই দেওয়া ডেটা বা অভিজ্ঞতার বিচারে সে বিশ্লেষণ করে এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। সেখানে তার কিন্তু ভুল হওয়ারও প্রভূত সম্ভাবনা আছে। এর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। একজন সচেতন ছাত্র হিসেবে তোমাদের দায়িত্ব হলো AI থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে নিজের বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করা। যদিও বিজ্ঞানীরা দিনরাত লড়াই করে চলেছেন এর নতুন নতুন উপস্থাপনা দিতে।
ChatGPT, Grok, Gemini সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁরা বলেন এগুলো AI-এর এক একটি উন্নত শাখা। সার্চ ইঞ্জিন শুধু তথ্য খুঁজে দেয়, কিন্তু এই AI মডেলগুলো সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে মানুষের মতো গুছিয়ে উত্তর লিখতে, কোডিং করতে বা সৃজনশীল কাজ করতে পারে।
AI খুব দ্রুত কাজ করতে পারে এ কথা ঠিক, কিন্তু তার কোনো বিবেক নেই। কোনটি নৈতিকভাবে সঠিক আর কোনটি ভুল, সেই বিচার করার ক্ষমতা মানুষের। তাই AI-কে নৈতিক গণ্ডির মধ্যে রাখা জরুরি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর এই কর্মশালায় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক দীপক রঞ্জন মন্ডল। তিনি বারবার স্মরণ করিয়ে দেন, বিজ্ঞানের উন্নতি যেন আমাদের অলস না করে দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি আমাদের সৃজনশীলতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং আমাদের চিন্তাকে আরও ধারালো করার জন্য ব্যবহার করা উচিত। বেস এডুকেশনাল হাব ও অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ সকলকে এদিন অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শশাঙ্ক শেখর মন্ডল।

