কলকাতা 

SIR লক্ষ্য মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা! নেপথ্যে কারা?

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম :  এস আই আর স্পেশাল ইনটেনশিপ রিভিশন বা নিবিড় সংশোধিত ভোটার তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নানা রকম তথ্য সামনে আনা হচ্ছে। দেশের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন এর আগে নাকি এস আই আর হয়েছে। কিন্তু কবে হয়েছে সেই এস আই আর এর বিজ্ঞপ্তিতে কি কি চাওয়া হয়েছিল তা কিন্তু সুপ্রিম কোর্টেও দেখাতে পারেনি দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন।রাহ

রাহুল গান্ধী ভোট চুরির বিষয়টি সামনে আনার পর সমগ্র দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তারপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয় ভোটার তালিকা কে আরো বেশি স্বচ্ছতা আনার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশন স্বীকার করে নিয়েছে ২০২৪ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যে সংশোধন বিয়োজন হয়েছে তা নিয়ম মেনে হয়নি তাতে গলদ ছিল। এখানে আমাদের কোন আপত্তি নেই রাহুল গান্ধীর ২০২৪ এর ভোটার তালিকা নিয়ে তার সংযোজন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করে চলেছেন তা তাতে নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নতুন করে ভোটার তালিকা তৈরি করব সেটা করার অধিকার সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে। কিন্তু এস আই আর এর নাম করে নাগরিকত্বের প্রমাণ প্রমাণ চাওয়ার ভোটারদের কাছ থেকে সেটা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয় সে কাজটা করবে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবুও ১১ টি তালিকা তৈরি করে বিহারের নির্বাচনী আধিকারিক কে দিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন বলে দিল এইসব তালিকার ভিত্তিতে নতুন ভোটার তালিকা তৈরি হবে।

Advertisement

যে ১১ টি তালিকা নির্বাচন কমিশন দিয়েছিল তার সবটা জনগণের কাছে থাকাটা সত্যিই কঠিন। যে ব্যক্তিটি মাধ্যমিক পাস করেনি সে মাধ্যমিক সার্টিফিকেট দেখাতে পারবে না। তাহলে এই তথ্যটা চাওয়া ঠিক হয়নি। দ্বিতীয় প্রমাণ হিসাবে চাওয়া হয়েছে পাসপোর্ট এদেশের মাত্র পাঁচ শতাংশ থেকে 10% মানুষের হাতে পাসপোর্ট আছে সুতরাং সবার কাছে পাসপোর্ট থাকবে না এটা চাওয়া উচিত হয়নি। তারপর চাওয়া হয়েছে জমির দলিল অনেক গরীব মানুষ আছে যাদের কোন জমি নেই তারা ভাড়া বাড়িতে বাস করে তাহলে তারা প্রমাণ করবে তারা এ দেশের নাগরিক। এরকম 11 টি তথ্য চাওয়ার মধ্যে যেকোনো একটি পেশ করার কথা বলা হলেও স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়াসায় বলেছিলেন যে আপনার যে ১১ টি তথ্য চেয়েছেন তার মধ্যে একটি দুটি ছাড়া আমার কাছে সবটা নেই। সুপ্রিম কোর্ট থেকে বলা হল বারবার বলা হলো, আধার কার্ড কে মান্যতা দেওয়ার। আধার কার্ডকে মান্যতা দিতে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যত দেশের শীর্ষ আদালতকে চ্যালেঞ্জ করে বলল সংবিধান মতে আপনি আমাকে নির্দেশ দিতে পারেন না। এরপর যখন সুপ্রিম কোর্ট করা ভাবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করল এবং চর্চা করল শেষ পর্যন্ত আধার কার্ড কে মান্যতা দিতে হলো।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যখন আধার কার্ডকে মান্যতা দিতে বাধ্য হলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন তখন এবার আসরে নামল স্বয়ং বিজেপি। বিহারের এস আই আর এর পর ভোটার তালিকায় তিন লক্ষ সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের কাছ থেকে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে আধার কার্ড একমাত্র প্রমাণ। এরপরে আসরে নামলো বিহারের বিজেপি। পূর্ব চম্পারণ জেলার ঢাকা বিধানসভা কেন্দ্রে ৭৮৩৮৪ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপির প্যাডে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। যা এক নজির বিহীন ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঢাকা বিধানসভা কেন্দ্রে গতবার ১০০০০ এর কিছু বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এবার ওই কেন্দ্রেই প্রায় ৮০ হাজার প্রার্থীর নাম বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর যাদের নাম বাদ দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, তারা সকলেই মুসলিম।

প্রশ্নটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন যেখানে রাহুল গান্ধীকে হলফ নামা দেওয়ার কথা বলে সেখানে কেন ওইসব বিজেপি নেতাদের হলকনামা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেবে না। এই ঘটনাটি যেহেতু রিপোর্টার কালেক্ট নামে একটি ইংরেজি নিউজ পোর্টাল সকলের সামনে উপস্থাপন করেছেন তাতে এই দৃশ্য স্পষ্ট আমরা দেখতে পাচ্ছি। আর যে খবর আমাদের কাছে এখন এসে পৌঁছায়নি সেখানকার কি ভয়ংকর অবস্থা হয়েছে তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন।

এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছে তা আগামী পয়লা অক্টোবর ভোটার তালিকা নতুন রূপে প্রকাশিত হওয়ার পর স্পষ্ট রূপে ধরা পড়বে। এই ঘটনা থেকে এটাই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল করার জন্য সাধারণত এলাকাভিত্তিক ভোটার আবেদন করতে পারেন এবং তাদেরকে আবেদন করতে হবে নির্দিষ্ট ফর্মে। সেই আবেদন করতে গিয়ে ওখানকারের বিজেপির নেতারা দেখেছেন মাত্র ১৩০ থেকে ২০০ জনের নাম বাতিল করার জন্য আবেদন করতে পেরেছেন। রিপোর্টার্স কালেক্ট এর খবর অনুসারে জানা যাচ্ছে যে ওই এলাকার বিজেপির নেতা তথা বিজেপি বিধায়কের আপ্ত সহায়ক নিজে দলীয় প্যাডে ৭৮ হাজার ৩৮৪ জনের নাম নথিভুক্ত ভোটার তালিকায় থাকা বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিককে সরাসরি চিঠি লিখেছেন। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কথায় কথায় সবাইকে হলফনামা দেবার কথা বলে থাকেন বিজেপি দলের তার নিজস্ব প্যাডে একজন বিধায়কের আপ্ত সহায়ক যেভাবে ভোটার তালিকায় নাম বাতিলের জন্য সুপারিশ করেছেন তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবেন জ্ঞানেশ কুমার?

আসলে বিহারের ঘটনাকে এমনভাবে সাজিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধী যদি রাস্তায় নেমে আন্দোলন না করতেন তাহলে হয়তো এতদিনে সমস্ত কিছুই গুটিয়ে দিত নির্বাচন কমিশন বকলমে বিজেপি। যে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজের যুক্তিতে অচল থাকে সুপ্রিম কোর্টের কথা শুনতে চান না সেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ জাগবে। এদিকে বাংলাতে নাকি এসআইআর করবে এবার বাংলার এস আই আর এর প্রথম লক্ষ্য হল এই রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়। বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে প্রত্যেকদিন মুসলিম সম্প্রদায়কে আঘাত করে কথা বলছেন তারপরে অমিত শাহ থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদির নিরব থেকেছেন এটা পরিষ্কার ভাবে বোঝা যাচ্ছে বাংলায় এসআইআর করা হচ্ছে এই রাজ্যের মুসলিম সমাজকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে। নির্বাচন কমিশনকে সামনে এসে জানাতে হবে কেন একজন রাজনৈতিক দলের নেতা রাজনৈতিক দলের প্যাড ে আসে প্রায় ৮০ হাজারের মতো ভোটার তালিকা নাম থাকা ভোটারদের নাম বাতিল করার জন্য অনুরোধ করতে পারে কিনা। নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে বলতে হবে যে ভারতীয় নাগরিককে যদি জোর করে  ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাহলে তার বিরুদ্ধে এফআইআর কেন করা হবে না?  এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই এদেশের মানুষ নির্বাচন কমিশন কি, সেই প্রশ্নের উত্তর দেবেন সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ