ইভিএম বদলের চেষ্টা ? মমতার ধর্না কর্মসূচির পরেই কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের!
বাংলার জনরব ডেস্ক : গণনা কেন্দ্রে কারচুপি করার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ করে গতকাল রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে ধরনায় বসার পর নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।
এই ঘটনার পর কলকাতা সহ পশ্চিমবাংলার সমস্ত গণনা কেন্দ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ করেছিলেন কুনাল ঘোষ। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে সন্দেহজনক গতিবিধি, এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার শোরগোল ফেলে দেন কুনাল ঘোষ। দলের দুই প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। তৃণমূলের জমায়েতের খবর পেয়ে রাতে সেখানে পৌঁছে যান দুই বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠকও। রীতিমতো নাটকীয় এক মুহূর্তের সৃষ্টি হয় গতকাল রাতে। (West Bengal Election 2026)।

খাস কলকাতার বুকে EVM বদলের ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অসুরক্ষিত অবস্থায় EVM পড়ে রয়েছে এবং বহিরাগতরা ভিতরে ঢুকেছে বলে অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের EVM রয়েছে এখানে। তৃণমূলের তরফে যে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন EVM নিয়ে তাঁরা কিছু একটা করছেন। তৃণমূল দাবি করেছে, সব দলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে সেখানে ব্যালট বক্স খোলার বেআইনি চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এলাকা। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ নেয় নির্বাচন কমিশন।
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। বিধানসভা অভিযান বা নবান্ন অভিযানে যে ব্যারিকেড ব্যবহার করা হয় সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। তালা এবং শিকল দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
২. বাইরে প্রচুর কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও বাহিনী এবং ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ছেয়ে দেওয়া হয়েছে।
৩. একটি গেট বানানো হয়েছে। এই গেট দিয়ে শুধুমাত্র নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এজেন্ট ও প্রার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। তারপর আবার একজন অফিসার কথা বলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
৪. একমাত্র সার্টিফায়েড রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশের অনুমতি আছে। আর কাউকেই ধরে কাছে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিচয় পত্র ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে আর লিখে রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকালের ঘটনায় অবস্থান বিক্ষোভের সময় কুণাল ঘোষ জানিয়েছিলেন, “ভিতরে লোক ঢুকে হাতে হাতে ব্যালট খুলছে। সেটা তো বাইরে টিভি স্ক্রিন, কমিশনের স্ট্রিমিংয়েই দেখা যাচ্ছে! তাহলে আমাদের ঢুকতে দাও! তোমরা যদি বলে থাকো ‘আমাদের মেল করা হয়েছে!’ আমরা মেল দেখাচ্ছি ঢুকতে দাও। তাহলে মেল করার মানে কী? মুখে বলছো ডাকা হয়েছে। অথচ দেখতে এসছি ঢুকতে দেবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার অভাব। এখন বলা হচ্ছে, ভিতরে নাকি নদিয়ারও পোস্টাল ব্যালট এসেছে। জানি না সত্য়ি কি না।”

