ইডির দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এসডিপিআই
বিশেষ প্রতিনিধি : সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মুহাম্মদ থুম্বে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর নগ্ন চাঁদাবাজি ও ঘুষখোরির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সম্প্রতি ওডিশায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইডির উপ-পরিচালক চিন্তন রঘুবংশীকে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, কীভাবে একটি তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে ইডি দুর্নীতির গভীরে নিমজ্জিত হয়েছে এবং তাদের নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারেই বিলুপ্ত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রঘুবংশী প্রথমে ৫ কোটি দাবি করেন, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে ২ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়।

এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইডির বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার ঘুষ ও হুমকির মতো অভিযোগ উঠেছে। সন্দীপ সিং, পবন খত্রি, অঙ্কিত তিওয়ারি প্রমুখ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের অভিযোগ ইডির ভেতরে একটি গভীর দুর্নীতির সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে আসে। এসডিপিআই মনে করে, এসব ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতির নিদর্শন নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনের জন্য ইডিকে ব্যবহার করার প্রবণতারই অংশ। আইনের রক্ষক সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে ভয় দেখানো ও প্রতিহিংসা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে।
ইলেকটোরাল বন্ড কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রেও ইডির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন কোম্পানি, যাদের বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত শুরু করেছিল, তারা পরবর্তীতে শাসকদলকে বিপুল অঙ্কের অনুদান দিয়েছে—এমন তথ্য জনসমক্ষে এসেছে। এই ধরনের কার্যকলাপ তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা ও জনআস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এসডিপিআই দাবি করছে, এই সমস্ত অভিযোগের একটি স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত পরিচালিত হোক, এবং যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অপসংস্কৃতি বন্ধ হওয়া আবশ্যক।এসডিপিআই সুবিচার ও সুশাসনের লক্ষ্যে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।

