কল্যাণী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মবিদ্বেষী পোস্টার, দেশের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার উপর সরাসরি আঘাত : শবনম মুস্তারি
বিশেষ প্রতিনিধি : ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই সমগ্র দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষের চাষ শুরু হয়েছে।যার সর্বশেষ উদাহরণ—নদিয়ার কল্যাণী বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে “Dogs and Muslims are not allowed” লেখা একটি ঘৃণ্য নোটিস সাঁটানো হয়েছে। এই ঘটনা শুধু ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রকাশ নয়, এটি ভারতের সংবিধান, মানবতা ও শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতাকে পদদলিত করার এক জঘন্য প্রয়াস।
গত দুই দিন আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৭ জন নিরীহ ভারতীয় পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু তথাকথিত গোদি মিডিয়া ও বিদ্বেষমূলক শক্তিগুলি সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডকেও সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ পর্যটকদের বাঁচাতে নিজেকে শহীদ করেছেন আদিল হোসেন। এই সমস্ত ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য— দেশের মুসলিম সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিকে ধ্বংস করা।

এসডিপিআই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, আমাদের দাবি:
১. কল্যাণী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এই ধর্মবিদ্বেষী পোস্টার লাগিয়েছেন, তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনত কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন নিজে থেকে এই ঘটনার দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই প্রতিশ্রুতি দেয়।
৩. রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং শিক্ষাঙ্গনে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর এই অপচেষ্টা দমন করে।
৪. পাহেলগামের হামলার প্রসঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ভারতবর্ষ তার বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যকে ধারণ করে ,এটাই ভারতবর্ষের মহত্ব। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণার রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত।

