রাস্তা কিংবা বাড়ির ছাদে ঈদের নামাজ পড়লে কড়া পদক্ষেপ, বাতিল হতে পারে পাসপোর্ট!
বিশেষ প্রতিনিধি : রাস্তা বন্ধ করে ঈদের নামাজ পড়া যাবেনা নির্দেশিকা জারি করেছে উত্তরপ্রদেশের মিরাট পুলিশ প্রশাসন। এই নির্দেশিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর এই বিতর্কটা শুরু হয়েছে কেন্দ্রের এনডিএ জোট শরিক আর এল ডি প্রধান তথা কেন্দ্রের মন্ত্রী জয়ন্ত সিং চৌধুরী সমালোচনার মধ্য দিয়ে।তিনি এই পদক্ষেপকে জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ সালের ‘ডিস্টোপিয়ান’ উপন্যাসে লেখা নিপীড়নমূলক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
পুলিশের দাবি, উৎসবের সময় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। মীরাটের এসপি (সিটি) আয়ুশ বিক্রম সিং ঘোষণা করেছেন, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার মধ্যে রয়েছে এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে গ্রেফতারি। এমনকী পাসপোর্ট ও লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল করা হবে। তিনি গতবছরের কথা মনে করিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘গতবার রাস্তায় নমাজ পড়ার জন্য ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই বছরও কেউ রাস্তায় নমাজ পড়লে আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মসজিদ এবং ইদগাহের মতো নির্দিষ্ট জায়গায় নমাজ পড়তে হবে। রাস্তাঘাট একেবারে বাধামুক্ত রাখতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য ড্রোন, সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সশস্ত্র বাহিনী থেকে শুরু করে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
তবে, এই পদক্ষেপে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জয়ন্ত চৌধুরী এর সমালোচনা করে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে পিষ্ট করার মতো পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন।মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারাও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি নিয়ম থাকে, তাহলে তা সকলের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। শুধু একটি সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য নয়। এই পদক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে তাঁরা সমালোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার কোতোয়ালি থানায় শান্তি কমিটির বৈঠকে এএসপি শ্রীশ চন্দ্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, রমজানের শেষ জুম্মা আলবিদা জুম্মা এবং ইদের নমাজ শুধু মসজিদ এবং ইদগাহেই পড়া উচিত। তিনি আরও বলেন, মসজিদের কাছে বাড়ির ছাদে নমাজ পড়লেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

