অন্যান্য কলকাতা 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেই কার্যত সমর্থন করল নির্বাচন কমিশন! একই এপিক নম্বরে একাধিক নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি অসার অস্বচ্ছ এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য বললে অতুক্তি হবে না

শেয়ার করুন

বুলবুল চৌধুরী : তৃণমন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করতে গিয়ে একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আর এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা থাকবে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নানাভাবে তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ করেন। কিন্তু বাস্তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ কে স্বীকৃতি দিল স্বয়ং নির্বাচন কমিশন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে একই এপিক নম্বরে একাধিক নাম থাকার মধ্যে কোন ভয়ের কিছু নেই। এটা থাকতেই পারে নির্বাচন কমিশন তার নির্দেশিকা স্পষ্ট জানিয়েছে যে যে রাজ্যে যে কেন্দ্রে যে বুথে ভোটারের নাম রয়েছে সেই বুথেই তিনি ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা যে আত্মরক্ষার উপায় ছাড়া আর কিছু নয় এটা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন কার্যত ও স্বীকার করে নিয়েছে যে ভোটার লিস্টে দুর্নীতি হয়েছে এবং ভোটার লিস্টে একাধিক নাম রয়েছে একই এপিক নম্বরে। আর এতেই নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। প্রথমত ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে একই এপিক নম্বরে কেন একাধিক ভোটারের নাম থাকবে তার কোন স্পষ্টিকরণ দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে একই নম্বরে একাধিক নাম থাকার কোন যুক্তি নেই এবং থাকতেও পারে না। নির্বাচন কমিশন যদি নির্বাচনকে স্বচ্ছ অবাধ নিরপেক্ষ করতে চান তাহলে কোনভবেই একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম থাকতে পারে না

Advertisement

দ্বিতীয়তঃ নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাখ্যা যে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই । যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে একই নম্বর পাওয়া যায় না। যেখানে ব্যাংক একাউন্ট করতে গেলে একই নাম্বার পাওয়া যায় না। সেখানে কিভাবে একই এপিক নম্বরে একাধিক ফোটারের নাম নথিভুক্ত হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের অপারদর্শিতা অযোগ্যতা প্রমাণিত হচ্ছে।

তৃতীয়ত নির্বাচন কমিশন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। যদি এই ধরনের ভুল নির্বাচন কমিশন করে থাকে তাহলে এখনই উচিত নির্বাচনকে অবাধ শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ করার জন্য সংবিধানকে সম্মান জানানোর জন্য। সমস্ত এপিক নম্বর আলাদা আলাদা করে দেওয়া। তা না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশের একটা নির্বাচন কমিশন যেভাবে একই নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম থাকার কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বীকার করছে তাতে ভারতের গণতন্ত্র লজ্জা পাচ্ছে।

চতুর্থত নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয়েছে এই কারণে যে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার দপ্তরের সামনে ধরনায় বসবেন। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হুঁশিয়ারিতেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার অস্বচ্ছতাকে আড়াল করতে পারেনি।

পঞ্চমত, এতদিন ধরে কংগ্রেস নেতার রাহুল গান্ধী যে অভিযোগ করে আসছিল কার্যত সেটাও স্বীকার করে নিল নির্বাচন কমিশন তাহলে এতদিন ধরে কেন মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিল নির্বাচন কমিশন সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র নিয়ে কংগ্রেস দল ও বিরোধী দলের নেতারা যে অভিযোগ করেছে সেটাও কেন স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে না সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কেন তদন্ত করছে না!

যদিও পশ্চিমবঙ্গে এখনও প্রায় এক বছর বাকি বিধানসভা নির্বাচনের। কিন্তু ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে গত দু’দিনে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভিন্‌রাজ্যের ভোটারদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। মমতা বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের আশীর্বাদ নিয়ে দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও ফিল্ড সার্ভে না করে এআরও-র সাহায্যে অপারেটরদের কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ভূতুড়ে ভোটারদের নাম তোলা হচ্ছে। বাংলার ভোটারের একই এপিক কার্ডে হরিয়ানা, গুজরাতের লোকের নাম তুলছে!’’ উদাহরণ দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদের রানিনগরে কোনও ভোটারের এপিক নম্বরে হরিয়ানার কারও নাম তোলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের গঙ্গারামপুরেও কারও এপিক নম্বরে নাম উঠেছে গুজরাতের লোকের।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ কে ঘিরে যে সকল লোকেরা নানা বিরূপ মন্তব্য করছিলেন তারা এখন কোথায় মুখ লুকাবেন। নির্বাচন কমিশন যে অস্বচ্ছ বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করে চলেছে সেটা বার বার প্রমাণিত হচ্ছে যেটা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে বিপকজনক প্রবণতা বলে আমরা মনে করছি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ