জেলা 

জামিয়া রহমানিয়ার বার্ষিক ঈসালে সওয়াব মাহফিল

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল-জমায়াত পরিচালিত আল্লামা রুহুল আমিন (রহ.) স্মৃতি ‘জামিয়া রহমানিয়া’-এর বার্ষিক ঈসালে সওয়াব মাহফিল অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

১লা ফাল্গুন, শুক্রবার, জুমার নামাজের পর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। তিন দিনব্যাপী এই মহতী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আলেম, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীদের উপস্থিতি মাহফিলের গৌরব বৃদ্ধি করে।

Advertisement

উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ: ফুরফুরা শরিফের সম্মানিত পীরজাদা সাহিম উদ্দিন সিদ্দিকী সাহেব, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মনোয়ার রহমান সাহেব, অল ইন্ডিয়া সুন্নত-জমায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল মাতিন, মাগরিবি বাংলা আঞ্জুমানে ওয়ায়েজিনের সভাপতি মুফতি রজব আলী সাহেব, অল ইন্ডিয়া সুন্নত-উল-জমায়াতের সহ-সভাপতি আলহাজ ওহিদুল ইসলাম, জামিয়া রহমানিয়ার সভাপতি আলহাজ আকরাম আলী, সম্পাদক আলহাজ আব্দুল মান্নান, ক্যাশিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন (নয়ন), হিসাব রক্ষক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি, জামিয়া রহমানিয়া পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর পরিচালক, সম্পাদক, সভাপতি, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী, চিকিৎসক এবং অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলিম মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

দীনের প্রচার ও সমাজ উন্নয়নে এক অনন্য উদ্যোগ: তিন দিনের এই বিশেষ ইসলামী মাহফিলে বাদ মাগরিব জিকিরের মজলিস পরিচালনা করেন জামিয়া রহমানিয়ার ডিরেক্টর, আমিরে শরিয়ত মুফতী আব্দুল কাইউম সাহেব। মাহফিলে ইসলামী শিক্ষা, আদর্শিক দিকনির্দেশনা ও সমাজ গঠনে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিশিষ্ট আলেমগণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দীন প্রচার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন ও নৈতিক শিক্ষা প্রসারের করণীয় দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে মুফতি আব্দুল কাইউম সাহেব হুজুর বিশ্ব উম্মাহর শান্তি, মাগফিরাত ও কল্যাণ কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন। হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমান চোখের জলে দোয়া করেন, যেন আল্লাহ এই মিলনমেলা কবুল করেন এবং উম্মাহর জন্য রহমত বর্ষণ করেন।

স্থানীয়দের উদার সহযোগিতা: এই তিন দিনের মাহফিল সফল করতে জামিয়া রহমানিয়া সংলগ্ন এলাকার জনগণ অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। যেখানে বড় বড় ঈসালে সওয়াব মাহফিলে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য টাকা দিয়ে গ্যারেজের ব্যবস্থা করতে হয়, সেখানে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে হাজার হাজার গাড়ি সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দ্বীনি কাজে তাঁদের নিবেদিতপ্রাণ সেবার প্রতিচ্ছবি।

সাইবার টিম ও জামিয়ার ভক্তদের অক্লান্ত পরিশ্রম: অল ইন্ডিয়া সুন্নত-উল-জমায়াতের সাইবার গ্রুপের সদস্যগণও দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই মাহফিলকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে জামিয়া রহমানিয়ার এজেন্ট, সদস্য, সমর্থক, কর্মী ও ভক্তরা দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মহব্বতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসে হাজার হাজার মানুষকে সেবা প্রদান করেন। তাদের একাগ্রতা, ভালোবাসা ও নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।

১৬১ জন ছাত্রের পাগড়ি প্রদান: বাংলার মানুষের দানের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার: এ বছর মাহফিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ১৬১ জন ছাত্রের পাগড়ি প্রদান। তাঁদের মধ্যে ক্বারী, মাওলানা, মুফতি এবং বিভিন্ন বিষয়ের দক্ষ ছাত্ররা ছিলেন, যাঁরা ভবিষ্যতে দীনের খেদমতে নিজেদের নিবেদিত করবেন। এটি বাংলার মানুষের দান ও অর্থের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার, যা মুফতি আব্দুল কাইউম সাহেব হুজুর অত্যন্ত সততার সঙ্গে পরিচালনা করে চলেছেন।

আমানতদারির অনন্য নজির: বাংলার মানুষের অর্থ, দান ও সময়ের প্রকৃত রক্ষক হিসেবে মুফতি আব্দুল কাইউম সাহেব হুজুর আমানতের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আল্লাহ তাঁর এই মহান দায়াত কবুল করুন, তাঁর নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় করুন এবং দ্বীনের খেদমতে তাঁকে দীর্ঘ হায়াত দান করুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে দ্বীনের পথে অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ