কলকাতা 

CBI on TET Recruitment Case : প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে অধিকারী পরিবার ও ভারতী ঘোষেরাও যুক্ত ছিলেন? তথ্য সিবিআইয়ের হাতে!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার নাম জুড়ে গেল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষেরও। এছাড়াও বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের নাম ও প্রকাশ্যে এসে গেছে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ডিজিটাল আনন্দবাজারের খবর থেকে জানা যাচ্ছে, 2014 প্রাথমিক নিয়োগ টেট পরীক্ষায় নিয়ে যে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আজ সেই অনিয়মের তদন্ত করছে সিবিআই। সিবিআই এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে গত বছর (২০২৪) জুন মাসে বিকাশ ভবনের ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই। সেখানে তল্লাশি চালিয়েই ওই নথি উদ্ধার হয়েছিল। সিবিআই সূত্রে খবর, দিব্যেন্দু, ভারতীরা যাদের নাম সুপারিশ করেছিলেন, নথিতে তাদেরই নামের তালিকা রয়েছে। ওই তালিকা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের প্রাথমিকের পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২২ সাল থেকে তদন্ত শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

সিবিআইয়ের নথিতে দেখা যাচ্ছে, মোট ৩২৪ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। আর যাঁরা সুপারিশ করেছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় রয়েছে। তালিকায় দিব্যেন্দুর নামের পাশে এমপি (সাংসদ) লেখা। দিব্যেন্দু এক সময়ে তমলুকের তৃণমূল সাংসদ ছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদানের পর তিনিও পদ্মশিবিরে নাম লেখান। ভারতীর নামের পাশে এসপি (পুলিশ সুপার) লেখা। ভারতী পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার ছিলেন। পরে তিনিও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। মমতাবালার নামের পাশেও সাংসদ লেখা। তিনিও বনগাঁর সাংসদ ছিলেন।  বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁর নামের পাশে ২০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই মমতাবালা বলেন, ‘‘এ সব কিছুই জানি না। পুরোটাই চক্রান্ত। অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত নই।’’ দিব্যেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। তিনি কোনও মন্তব্যই করতে চাননি। বলেন, ‘‘নো কমেন্টস।’’

Advertisement

ভারতীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার অনলাইন। তিনি বলেন, ‘‘আমি এসপি থাকাকালীন অনেক লোকের উপকার করেছি। কিন্তু সবটাই আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে। কারও পরীক্ষাকেন্দ্র বদলের দরকার, যেখানে বলার বলেছি। কারও পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, রেজাল্ট বেরোচ্ছে না, যেখানে বলার বলেছি। কিন্তু কেউ পরীক্ষা দেয়নি বা পাশ করেনি, তাকে চাকরি দিয়ে দাও, এ রকম আমি কখনও বলিনি। আমার নাম যদি সিবিআই কোথাও পেয়ে থাকে, আমার বলায় কারও চাকরি হয়েছে বলে যদি সিবিআই জেনে থাকে, তা হলে সিবিআইয়ের উচিত ছিল আমার সঙ্গে কথা বলা। আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করতে পারত। আমার সঙ্গে কোনও কথাই বলল না। আমি কিছু জানতামই না। অথচ একটা চার্জশিট না কি মুণ্ডু জমা দিয়েছে, তাতে আমার নাম জড়িয়ে দিল। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি মোদীজিকে চিঠি লিখব। আজ রাতেই লিখব। কারণ সিবিআই মোদীজির দফতরের অধীনস্থ। সেই সংস্থা এ রকম বেআইনি কাজ করছে, সেটা আমি ওঁকে চিঠি লিখে জানাব।”

এ ছাড়া বিধায়ক পরিচয়ে নাম রয়েছে নির্মল ঘোষ, বীণা মণ্ডল, শওকত মোল্লা, শ্যামল সাঁতরা, রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, গুলশন মল্লিকের। সকলেই তৃণমূলের নেতা। নির্মল, বীণা, শওকত এবং গুলশন বর্তমানেও বিধায়ক। নথিতে রাজ চক্রবর্তীরও নাম রয়েছে। তবে তাঁর কোনও পরিচয় নেই।

এই নথি প্রকাশ্যে আসার পর এবার বিজেপি নেতারা কিভাবে এর মোকাবিলা করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত রয়েছেন এমন নেতাদের কেন বিজেপি দলে নিয়েছে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতদিন ধরে বিজেপি বিরোধী দলগুলো যে দাবি করে আসছিল যে বিজেপি আসলেই ওয়াশিং মেশিন যত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা বিজেপিতে যোগ দিলেই তিনি সাদা হয়ে যান। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এইভাবে বিজেপির প্রভাবশালী নেতারা কিংবা বিরোধী দলনেতার পরিবার এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ায় বিজেপি দল যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ