জেলা 

Chatradhar Mahato: সহযোগীদের মামলা গুলি প্রত্যাহার করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেন ছত্রধর মাহাতো! না হলে.. জঙ্গলমহল কী ফের অশান্ত হবে?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :  ছাত্রধর মাহাতো জঙ্গলমহলের একজন জনপ্রিয় নেতা। জঙ্গলমহলের তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয়তার পেছনে এই ছত্রধর মাহাতোর অবদান অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু দুঃখের হলেও সত্য এই ছত্রধর মাহাতোকে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে বেশ কয়েক বছর জেলে কাটাতে হয়েছে। এমনকি এনআইএ তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। শেষ পর্যন্ত সব মামলা থেকে নিষ্পত্তিতে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ছত্রধর মাহাতো। তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কিন্তু দলের কোন কাজ এখন তিনি করছেন না। এ নিয়ে অবশ্য দলনেত্রী খোঁজখবর নিয়েছেন। তেমন সাড়া পাননি। অন্তরালেই ছিলেন ছত্রধর মাহাতো। হঠাৎ শনিবারে দেখা মিলল ছত্রধর মাহাতো তিনি ঝাড়গ্রামে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই এলাকার যে সকল মানুষ মামলায় জেরবার হয়ে রয়েছে তাদের সকলের উপর থেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুললেন। এই দাবি তোলার পাশাপাশি খুব হালকা করে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে করিয়ে দিলেন, মামলা থেকে মুক্তি দেওয়ার আশ্বাস একদা তিনিই দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে কাজের জায়গা যদি না মেলে তাহলে আন্দোলন করতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন ছত্রধর।

Advertisement

শনিবার ঝাড়গ্রামে লোধাশুলির পথসাথী ভবনে ছত্রধরের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে ছিলেন তাঁর পুরনো সঙ্গীরা। ওই সভায় ছত্রধর মাহাতো বলেন, ‘‌আমি দু’টি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে যৌথবাহিনী নয়াদিল্লির ট্রেন ধরবে। আর যে সব মানুষজনকে বাম সরকার মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে সেগুলি প্রত্যাহার করে তাঁদের সম্মান দেওয়া হবে। ওই সভায় শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না। যাঁরা এখানে রয়েছেন, তাঁরা জানেন ওই সভা আমরা কেমন করে লালগড়ে করিয়েছিলাম।’‌ এই বক্তব্য থেকে বার্তা স্পষ্ট, শর্ত মানলে তবেই তিনি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবেন।

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে জঙ্গলমহল গুলি–বোমায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। সেই জঙ্গলমহল আজ পর্যটন কেন্দ্র। সেটা যেন অশান্ত হয়ে না ওঠে সেটাই সবাই চান। এই নিয়ে ছত্রধরের বক্তব্য, ‘‌একজন একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদালতে ছুটছেন। মামলা চালানোর ব্যবস্থা করা উচিত। রাজনৈতিক কর্মীদের সহায়তার জন্য ‘লিগ্যাল সেল’ চালু করা উচিত। পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ১৫০০ স্পেশাল হোমগার্ড নেওয়া হয়েছে। তথাকথিত মাওবাদীদের হামলায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিজনের চাকরির ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু যাঁদের উপর ভর করে আপনি ক্ষমতায় এলেন, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন। মামলাগুলি প্রত্যাহার করুন।’‌

জঙ্গলমহলে ছত্রধরকে দায়িত্ব দিয়ে সংগঠন সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এখানে এখন দলের জমি অত্যন্ত শক্তিশালী। ছত্রধর ‘জঙ্গলমহলের ভূমিপুত্র’। এটাই সকলেই জানেন। তাই তাঁর সংবর্ধনায় সাঁকরাইল, বেলপাহাড়ি, জামবনি এবং ঝাড়গ্রাম ব্লকের শতাধিক লোক এসেছিলেন। ওই সভায় ছত্রধরের কথায়, ‘‌এখন জনসাধারণের কমিটির আন্দোলনের কর্মীরা দু’টি শ্রেণিতে বিভক্ত। একপক্ষ মামলা চালাতে গিয়ে সর্বস্ব বেচছেন। আর একপক্ষ সরকারি চাকরি পেয়ে সরকারের বেতন পেয়ে মামলা চালাচ্ছেন। এই বৈষম্যের অবসান হওয়া দরকার। মানুষ এখনও বঞ্চনার মধ্যে আছেন। বঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করার জায়গা যদি না পাই তবে আমাকে জায়গা খুঁজে নিতে হবে। কেমন করে অধিকার আদায়ের লড়াই করতে হয় আমি জানি।’‌ আর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেছেন, ‘‌উনি যা বলেছেন, সেগুলি ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়।’‌


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ