আর জি করের সিনিয়র চিকিৎসকদের গণ ইস্তফা! চাপে মমতা সরকার
বিশেষ প্রতিনিধি : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে দুঃসংবাদ এসে পৌঁছালো। আরজিকর মেডিকেল কলেজের সব সিনিয়র চিকিৎসকরা গণ ইস্তফা দিতে চলেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ১০ দফা দাবিতে জুনিয়ার চিকিৎসকরা ধর্ম তলায় আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন। গতকাল সোমবার হঠাৎ করেই বহু বাজার থানার পক্ষ থেকে ধর্মতলার অনশন মঞ্চে গিয়ে যেভাবে দুনিয়ার চিকিৎসকদের বসার জায়গাগুলিকে বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে চলে আসা হয় তাতেই ক্ষিপ্ত হয়েছে এই রাজ্যের সিনিয়র চিকিৎসক মহল।
প্রায় দু’মাস হয়ে গেল আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের আঁচ সেই যে জ্বলে উঠেছে, তা এতদিনে স্তিমিত হওয়ার বদলে বরং বারবার তীব্রতর হয়ে উঠেছে। ডাক্তারদের আন্দোলনের গতিও বাড়ছে ধাপে ধাপে। মিছিল, বৈঠক, অবস্থান– এসবের পরে শুরু হয়েছে আমরণ অনশন।

প্রাথমিক ভাবে ৬ জন জুনিয়র চিকিৎসক শুরু করলেও, আরজি কর থেকে একের পর এক চিকিৎসক সেই অনশনে সামিল হচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে সিনিয়র চিকিৎসকদের ১২ ঘণ্টার প্রতীকী অনশনও।
এরই মধ্যে ঘটে গেল এক বড় ঘটনা। আরজি কর হাসপাতাল থেকে একের পর এক ইস্তফা দিলেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকেও ইস্তফা পত্র পড়ছে একের পর এক। পুজোর ঠিক মুখে এই ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঠিক কীসের দাবিতে এত দিন পরেও চলছে ডাক্তারদের এই আন্দোলন? কেনই বা প্রশাসন বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও স্বাভাবিক হচ্ছে না কাজের গতি?
জানা যাচ্ছে, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের। দ্বিতীয়বারের কর্মবিরতি অল্প দিনের মধ্যে তুলে নিয়ে তাঁরা এখন অনশন শুরু করেছেন ধর্মতলায়। তাঁদের সমর্থনে একাধিক সিনিয়র ডাক্তারও অনশন মঞ্চে সামিল হয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করছেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে রাজ্য জুড়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাতে সামিল হয়েছেন সিনিয়র ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরাও।
এদিন অনশন মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীরা সাফ জানান, আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের পাশাপাশি কলেজে কলেজে ভর্তিতে দুর্নীতি, থ্রেট কালচার-সব ধরনের বেনিয়ম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে।এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই আরজি কর হাসপাতালে শুরু হল গণইস্তফা।

