দেব কুনালের সোশ্যাল মিডিয়ায় সংঘাতে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে তৃণমূলের! নিরব কেন নেত্রী?
বিশেষ প্রতিনিধি : কুনাল ঘোষ বনাম ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী অর্থে দেব বিতর্কে জড়িয়ে গেলেন। বিষয় ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুজনে একে ওপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।কুণাল সমাজমাধ্যমে দাবি করলেন, ঘাটাল হাসপাতাল ওই যন্ত্রের উদ্বোধন আগেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন উদ্বোধক হিসাবে তাঁর নাম পরিবর্তন করে সাংসদ দেবের নাম বসানো হয়েছে। নিজের দাবির সপক্ষে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন। এর পরেই সমাজমাধ্যমে খোলা চিঠি দিয়ে দেব তাঁকে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করার পরামর্শ দেন। কুণাল যদিও থামেননি। দলের ‘কুৎসাকারীদের সঙ্গে আদিখ্যেতা’ করার জন্য নায়ককে একহাত নেন তৃণমূল নেতা।
গত বুধবার ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নতুন ডায়ালিসিস যন্ত্রের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন দেব। সেই নিয়েই সমাজমাধ্যমে দেবকে খোঁচা দেন কুণাল। সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, গত ১২ মার্চ ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঘাটালের ওই হাসপাতালে ডায়লিসিস ইউনিটের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪ সেপ্টেম্বর ওই একই ইউনিটের উদ্বোধন করেন সাংসদ দেব। দু’টি ছবি পোস্ট করে কুণাল দাবি করেন, উদ্বোধক হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী নাম বদলে সাংসদের নাম করা হল। কুণালের খোঁচা, ‘‘সুপারস্টার একেই বলে। এলাকার মানুষ তো অবাক!! অভিনন্দন দেব।’’
এর পরেই মাঠে নামেন দেব। সমাজমাধ্যমে খোলা চিঠি দেন কুণালকে। তিনি লেখেন, ‘‘আমি দিদিকে অনুরোধ করেছিলাম ঘাটাল হাসপাতালে ডায়লিসিস এবং সিটি স্ক্যান যন্ত্রের জন্য, সেটা দিদি মার্চ মাসে ভার্চুয়ালি ঘোষণা করেন।’’ দেব জানান, গত সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিনি যন্ত্রগুলির উদ্বোধন করেন, যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারে। তাঁর দাবি, এর ফলে কোনও ‘মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ, সুপারস্টার বা মুখপাত্র’ নন, সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। কুণালকে খোঁচা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘‘ধন্যবাদ তোমাকে, তোমার মাধ্যমে এই পরিষেবার কথা আরও অনেকের কাছে পৌঁছে গেল।’’ নিজের পোস্টে তথ্য যাচাই না করে সংবাদমাধ্যমে পোস্ট না করার পরামর্শও দেন দেব। মনে করিয়ে দেন বর্তমান পরিস্থিতির কথা। তিনি লেখেন, ‘‘শেষে একটাই কথা বলব, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাতে তথ্য যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য না করাই ভাল।’’ সাধারণ মানুষকে ঘাটাল হাসপাতালের এই পরিষেবা নিয়ে সচেতনও করেন সাংসদ।
দেব পরিস্থিতির কথা মনে করাতেই কুণাল পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে দলের ‘কুৎসাকারী’-দের সঙ্গে ‘আদিখ্যেতা’ করার অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘‘চলতি পরিস্থিতির কথা যদি বলো, আমরা সৈনিকেরা বিষপান করেও লড়ছি, অপ্রিয় হচ্ছি। যারা দল, সরকারকে গালমন্দ করছে, পেশা ও সৌজন্যের নামে তাঁদের সঙ্গে আদিখ্যেতা করি না।’’ তিনি এ-ও জানান, ছবি থেকেই স্পষ্ট যে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে যন্ত্রের উদ্বোধন করেছিলেন মমতা। আর উদ্বোধন দু’বার হয় না।
তবে কুনাল ও দেব ের এই সংঘাত আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। এই দলের মধ্যে যে কোন শৃঙ্খলা নেই সেটা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ সব বিষয়ে মন্তব্য করে থাকেন আর এই মন্তব্যের ফলে দলের অবস্থা যে আরো খারাপ হচ্ছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সংখ্যালঘু সমাজ যদি মমতার কাছ থেকে একবার মুখ ফিরিয়ে নেন তাহলে যে এই সরকার গঙ্গা পারে বিদায় নেবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও কুনাল ঘোষেরা কথা বলে যাবেন। বিতর্ক তৈরি করে যাবেন আর সংখ্যালঘু সমাজের দায় হচ্ছে এই সরকারকে টিকিয়ে রাখা।

