কলকাতা 

উপনির্বাচনে বিপর্যস্ত ! শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়ার মত সংগঠন নেই বিজেপির বললেন শমিক ভট্টাচার্য

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলা জনরব প্রথম থেকেই বলে আসছিল এই রাজ্যে বিজেপির কিছু নেই। গণমাধ্যমের তৈরি করা রাজনৈতিক দল হল বিজেপি আর ঘটনারচক্রে তার পরিণতি যা হওয়ার কথা, তাই হয়েছে। কত লোকসভা নির্বাচনে বারটি আসন পাওয়ার পর উপনির্বাচনে কার্যত- রাজ্য থেকে মুছে গেল বিজেপি। এমন ভোটের ব্যবধানে হেরেছে যে আর বলার মত কিছু নেই। এতদিন পরে বিজেপি নেতারা স্বীকার করতে বাধ্য হলেন যে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। আমরা বলছি বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এতটাই রয়েছে যদি গণমাধ্যমে এবং কয়েকজন ইউটিউবার বিজেপিকে এভাবে প্রচার না দেয় তাহলে আগামী দিনে এই রাজ্যে বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মিডিয়ার দৌলতে বিজেপির এই রাজ্যে উত্থান। এর বাইরে কিছু নেই । উপনির্বাচনের ফল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আরে কথা কে কার্যতো স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমিক ভট্টাচার্য।

উপনির্বাচনের ফল সামনে আসার পর শনিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে শমীক ভট্টাচার্যর (Samik Bhattacharya) সাংবাদিকদের বলেন, ”এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটে লড়াই করার মতো সংগঠন বিজেপির নেই। এটা অস্বীকার করতে আমাদের লজ্জা নেই। আমরা পারিনি সে ধরনের সংগঠন তৈরি করতে – এটা আমাদের ব্যর্থতা।” তবে ভোট লুট নিয়ে তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে ছাড়লেন না তিনি। বাগদা (Bagda) ও রানাঘাট দক্ষিণে মানুষকে জোর করে, ভয় দেখিয়ে শাসকের পক্ষে ভোট দেওয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

Advertisement

চার আসনের মধ্যে একমাত্র মানিকতলা ছাড়া বাকি তিনটিই ছিল বিজেপির (BJP) দখলে। সেসব আসন থেকে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পদ্মফুল। রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা – সর্বত্র সবুজঝড়। কিন্তু একুশের বিধানসভা নির্বাচনে (WB Assembly Polls 2021) এখানকার ফলাফল মাত্র তিন বছরে এতটা বদলে গেল কেন? কেন জেতা আসনেও হারের গ্লানি সহ্য করতে হল বিজেপিকে? তার অন্যতম কারণ যে প্রার্থী বাছাই, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। একমাত্র মানিকতলায় (Maniktala)কল্যাণ চৌবে ছাড়া তিন আসনের বিজেপি প্রার্থীরা বিশেষ পরিচিত নয়। বাগদার প্রার্থী বিনয়কুমার বিশ্বাসকে নিয়ে দলের অন্দরেই অসন্তোষ ছিল। অন্যদিকে, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া রায়গঞ্জের কৃষ্ণ কল্যাণী বা রানাঘাট দক্ষিণের মুকুটমণি অধিকারীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন নিজেদের ক্যারিশ্মায়।

বাগদা, রানাঘাট দক্ষিণের (Ranaghat Dakshin) হার নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, ”আজকের সময় ভোটের সংগঠন বলতে যেটা বোঝায় সেটা আমরা তৈরি করতে পারিনি। বোমা-পিস্তলের পালটা তো বোমা, লাঠিতে হয় না। তবে এগুলোকে প্রতিহত করার জন্য যে ধরনের সংগঠন দরকার সেটা আমরা তৈরি করতে পারিনি। যেভাবে সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ভোট হয়েছে বা ভোট হয় বাংলায়, সেটা বুঝতে হবে। এধরনের ফল দলগতভাবে আমাদের প্রত্যাশিত ছিল।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ