বাংলা তথা সমগ্র দেশে এক নায়কতন্ত্র চালাচ্ছে বিজেপি, ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে, পাটনার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার জনরব ডেস্ক: বিজেপির বিরোধী জোট করার লক্ষ্যে বিহারের রাজধানী পাটনায় ১৭ টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন বাংলা তথা দেশে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে বিজেপি সরকার, আর এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পশ্চিমবাংলায় রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের রণকৌশল ঠিক করতে পাটনায় ১৭ বিরোধী দলের বৈঠক হয় শুক্রবার। যেখানে প্রাথমিকভাবে একসঙ্গে লড়াইয়েরই সিদ্ধান্তে একমত সকলে। এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বিজেপিকে একহাত নেন। বলে দেন, একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে বিজেপি। বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আর চব্বিশের লোকসভায় এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করতে হবে।
ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়ে মমতা বলে দেন, “অনেকেই বলছেন আবার বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় এলে আর ভোটই হবে না। এই সরকার ফিরলে আর ভারত থাকবে না।” এরপরই তাঁর নিশানায় উঠে আসে রাজভবন তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কার্যকলাপ। পাটনার বৈঠকেও প্রকট হয়ে ওঠে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। বাংলার বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ থেকে তৃণমূল সরকারকে না জানিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন- সবকিছু নিয়েই আক্রমণ শানান মমতা।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “রাজভবন থেকে সমান্তরাল সরকার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজের ইচ্ছে মতো উপাচার্য নিয়োগ করা হচ্ছে। এমনকী আমাদের কিছু না জানিয়েই রাজভবনে বাংলার প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করা হয়েছে। কিছু বললেই ইডি-সিবিআই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। পাটনার বৈঠক থেকেই সেই ইতিহাস শুরু হয়। অভিন্ন কর্মসূচি ঠিক করতে সিমলায় আবার বৈঠকে বসব আমরা।”

