কলকাতা 

গরিবের ভগবান বিশিষ্ট নিউরো সার্জেন ফনি মন্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ হয়ে গেল ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আমাদের শ্রদ্ধেয় ১০০ টাকার নিউরোসার্জন গরীবের ভগবান ফণীদার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার ঘৃণ্য অভিযোগ এনে তাঁকে সাধারন গরীব মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস আবারও ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন থেকে নাকচ হয়ে গেল। এর কোনও মেরিট নেই।

২০১১ সালের এপ্রিলে আমাদের শ্রদ্ধেয়, চিকিৎসক আন্দোলন এবং নানা সামাজিক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ সুজিত দাস মাথায় চোট পেয়ে মারা যান। প্রথম থেকে শেষ অবধি তাঁর সবকিছু, এমনকি রক্ত অবধি দান করেছেন ফনীদা এবং রাজেন। সুদীর্ঘ প্রায় ৩২ ঘন্টায় ফনিদা মাত্র দু-তিন ঘন্টা ছাড়া সব সময়টাই ছিলেন সুজিতদার সাথে। তার চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা, এমনকি অপারেশন নিজের হাতে করেন। সুজিতদা ব্যাচেলর ছিলেন। তাঁর “বাড়ির” কেউ তার পাশে ছিল না। এমনকি সুজিতদা তাঁর ডাক্তার বোন এবং ডাক্তার ভাগ্নে-কে পরিষ্কার ভাবে ত্যাগ করে গিয়েছিলেন। তাঁর যে কোনও ব্যক্তিগত কাজে অকাজে নির্ভর করতেন এই ফনীদা এবং তার সাথীদের উপরই।

চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মাত্রই কয়েক মিনিটের জন্য এই ডাক্তার ভাগ্নেটি উপস্থিত ছিল এবং ফনীদার চিকিৎসার উপর সম্পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছিল।

এর পরেই মঞ্চে নামে জনৈক চিকিৎসক কুশল সাহা, আমেরিকায় থাকেন তিনি এবং নিজেকে যে কোনও ব্যাপারেই দক্ষ ওস্তাদ ভাবেন। তিনি সম্ভবত ভাইরাস নিয়ে কাজ করেন, অথচ প্রখ্যাত নিউরোসার্জন এর ভুল বার করেন। আবার ওষুধের প্রয়োগের ব্যাপারে সেই বিষয়েরই চল্লিশ বছরের প্রোফেসরকে ঢুকতে দিতে চান না। একটিই তার গপ্প। জনৈকা অনুরাধা সাহা মামলা। তা দিয়েই তিনি সব বিচার করে থাকেন। তিনি এক্সপার্ট হিসেবে ফনীদাকে দোষী সাব্যস্ত করেন, আবার তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে ফণীদার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, আবার কী আশ্চর্য এমন যিনি বায়াসড, তিনি আবার কোর্টে সওয়ালও করেন। তার বক্তৃতা, আমেরিকান স্টাইলে হাত-পা নাড়া সবাইকে বিমোহিত/ আশঙ্কিত করে। ভাগ্নে ডাক্তারটি তার মামা (অথবা, ‘বাবা’?)কে “অবহেলায়, বিনা চিকিৎসায়” মরতে দিলেন। মরার পর শকুনের মত নেমে পড়লেন ভাগাড় সাফের আশায়। পারিবারিক একটা কিস্যা দু’জন ইংল্যান্ড/ আমেরিকা ফেরত “শকুন-ডাক্তারের” সম্ভাব্য শিকারক্ষেত্রে পরিণত হল।

দরজা থেকে দরজায় ঘুরেছে এই “ডাক্তার” টি এবং তার “ডাক্তার মা”.

দান করে দেওয়া মৃতদেহর অটোপ্সি (রাজ্যে প্রথম ঘটনা), সরকারের কাছে অভিযোগ, থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল, জাতীয় মেডিকেল কাউনসিল, তাদের করে দেওয়া এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্টে খুশি না হওয়া, সমস্ত তথ্য গোপন করে আবার ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। অলিখিত দাবী এটাই যে তাদের পক্ষে রায় দিতে হবে, ফনীদাকে মেডিকেল নেগলিজেন্সের দায়ে শাস্তি দিতে হবে, এক কোটি টাকা দিতে হবে। বলা বাহুল্য এই পরিমানটি ক্ষতিপূরণ নাকি শাস্তি সেটাতেই তারা পরিষ্কার নয়।

আশচর্য হব না, যদি দেখি পুরো এই ঘটনার পিছনে কর্পোরেট সেক্টরের হাত পাওয়া যায়। ফনীদা রাগে দুঃখে, ক্ষোভে অভিমানে প্র‍্যাকটিস করা ছেড়ে দিয়েছেন। ১০০ টাকা দিয়ে আর নিউরোসার্জন দেখানো যাবে না। যেতে হবে, আপনি বাধ্য হবেন কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ডাক্তার দেখাতে।

এতে সাধারন মানুষের ক্ষতি হচ্ছে, হবে। কর্পোরেটের পোয়া বারো।

প্রসঙ্গত দিগগজ ঐ ভাগ্নে-ডাক্তারটি নিজে একটি কর্পোরেট হাসপাতালের পোষ্যপালিত একজন “ডাক্তার”! আমেরিকা বাসী “ডাক্তারটি” বেটার ট্রীটমেন্টের নামে “নো ট্রীটমেন্ট ফর পিপল” এর কারবার করে বেড়াচ্ছেন।

ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন গরীবের ভগবান ১০০ টাকার প্রখ্যাত নিউরোসার্জন ফনী মন্ডল। যে কাজের জন্য তাঁকে সামাজিক সম্বর্ধনা দেওয়া উচিৎ ছিল কিছু ডাক্তার নামধারী কুলাঙ্গার ঠিক সেই কাজের জন্যই তাঁকে ফাঁসাতে চেয়েছিল, তাঁকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের রায়ে তিনি মিথ্যে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

কিন্তু তাঁর এই সামাজিক লাহ্ননা, মানসিক অত্যাচার, রুগীদেখা বন্ধ করে দেওয়া? এইসবের কী হবে? সাধারন মানুষ কি এগিয়ে আসবে না গরীব রোগীর ভগবানের সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য??????


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ