কলকাতা 

গার্ডেনরিচের ব্যবসায়ী আমির খানের আরো কোটি কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে,আদালতে দাবি ইডির

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হওয়ার উপক্রম হয়ে উঠেছে । গার্ডেনরিচের ব্যবসায়ী আমির খানের ৩০০ টি ব্যাংক অ‌্যাকাউন্ট এর সন্ধান পাওয়া গেছে। অন্যদিকে তার সঙ্গী আরেক ব্যবসায়ী রুমে আগরওয়ালের অ‌্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে 300 কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি।ওই বিপুল টাকা পরিবর্তন করা হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে (Cryptocurrency) । নির্জন কেইম‌্যান দ্বীপ থেকে ওই ক্রিপ্টোকারেন্সির কারবার চালানো হচ্ছে, যেখানে কোনও আইন খাটে না। এখনও পর্যন্ত আমির খান ৭০০ কোটি টাকারও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিবর্তন করেছে বলে তথ‌্য এসেছে ইডির কাছে।

গেমিং অ‌্যাপ (Gaming App) চক্রের মাথা আমির খানের গার্ডেনরিচের বাড়ি থেকে ১৭ কোটি টাকা উদ্ধারের পর উল্টোডাঙায় তাঁর সঙ্গী রোমেন আগরওয়াল ওরফে রুমেনের বাড়ির আলমারি থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ফ্রিজ করা হয় ৭ কোটি টাকার উপর ক্রিপ্টোকারেন্সি। রুমেন আগরওয়ালকে গ্রেপ্তার করে ইডি। আট দিনের ইডি হেফাজতের পর শুক্রবার তাকে ব‌্যাঙ্কশালে ইডির বিশেষ আদালতে তোলা হয়। তাকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ফের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতে বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে রুমেন জানায়, তার মোটর ট্রেনিং স্কুল ও রিয়েল এস্টেটের ব‌্যবসা রয়েছে। এ ছাড়াও সে কল সেন্টারের টাকা নিজের কাছে রেখে লেনদেন করে। ইডি যে টাকা উদ্ধার করেছে, তা কল সেন্টারেরই টাকা।

যদিও ইডির দাবি, ওই টাকা গেমিং অ‌্যাপের। আমির খানের গেমিং অ‌্যাপের টাকা ৪৪ হাজার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিবর্তন করে ৭০০ কোটি টাকা বা সেই মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা কোনও সংস্থার শেয়ারে লগ্নি করে কালো টাকা সাদা করা হয়। আমিরের সঙ্গে রুমেনের যোগ স্পষ্ট। রুমেনের শুধু একটি অ‌্যাকাউন্ট থেকেই চার কোটি টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়াও রুমেনের অ‌্যাকাউন্ট থেকে সওয়া লাখ মার্কিনি ডলার বিদেশের এক ভারতীয়র অ‌্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছেন ইডি আধিকারিকরা।

আদালতে ইডির আইনজীবীর দাবি, আমিরের ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে রুমেনের ক্রিপ্টো ওয়ালেটে টাকা পাঠানো হয়েছে। ডার্ক ওয়েবের মাধ‌্যমে পুরোটাই পরিচালনা হচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির অ‌্যাকাউন্টগুলি ‘আলফা নিউমেরিক’ ৫০টি সংখ‌্যার। এই সংখ‌্যার একটিও এদিক ওদিক হলে তাতে টাকা ঢুকবে না। ফলে অভিযুক্ত বলতেও পারবে না যে, তার অজান্তে অ‌্যাকাউন্টে বিপুল টাকা এসেছে। দুবাই, চিন, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমির, রুমেনদের অ‌্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন হয়েছে। এই বিপুল টাকা কোথা থেকে এসেছে, কাদের হাতে পৌঁছচ্ছে, সেই ব‌্যাপারে নিশ্চিত হতে আরও ৬ দিনের জন‌্য ইডি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবী। অভিযুক্তর আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ