জেলা 

বারাসতের কালীপূজা, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ/ সুকুমার মিত্র

শেয়ার করুন

সুকুমার মিত্র : বারাসতে দুই ধরনের কালী পুজো। একদল খ্যাতির শিখরে। সেই সব পুজোকে ঘিরে হয় জন বিস্ফোরণ। সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন হিমসিম।‌ আজ বৃহস্পতিবার দোকান বন্ধ, ভাইফোঁটা -এর প্রভাব পড়বে থিম দর্শনে।

অপর দল যারা উপরের পর্যায় ভুক্ত নন যারা নিজেরাই থিম। তাঁরা তারস্বরে মাইক, ডিজে ও ভয়ঙ্কর শব্দবাজি ফাটিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। প্যান্ডেলে লোক টানার এই কৌশল গত তিন দশক ধরে প্রত্যহ্ম করছি।

এসবই প্রশাসন জানলেও পুজোর পৃষ্ঠপোষকদের মুখ চেয়ে থাকে প্রশাসন। কে আর খুঁচিয়ে বিরাগভাজন হতে চায়। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগী হওয়ায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গেছে। তারপর ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যথেষ্ট দহ্মতা দেখিয়েছে।

১৯৮০ সালে অবিভক্ত ২৪ পরগণা জেলার জেলাশাসক ছিলেন রানু ঘোষ। বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রশাসন কাকে বলে। উচ্ছৃঙ্খল জনতার বেয়াদপি আচরণ দেখে আলিপুর থেকে ছুটে এসে তিনি দাঁড়িয়ে থেকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল জনতা সেবার একটা সরকারি বাসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। জেলাশাসক তা মেনে নিতে পারেননি।

পরে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক চলে তার। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সেই ইস্যুতে তিনি মাথা নত করেননি বলেই জানি। তবে তারপর থেকে কালিপুজোয় অনেকটাই রাশ ধরে প্রশাসন। সাধারণ নাগরিক ও উদ্যোক্তারা সচেতন হলে মানুষের চরম ভোগান্তি হয় না। থাকে না বড় সড় দুর্ঘটনার আশংকা। সবটাই তো প্রশাসনের দায় নয়। নাগরিক কর্তব্য কিছু থাকবে না। সমাজের কি কিছুই করার নেই। এসব ভেবে দেখার সময় পার হয়েছে। একটু পা চালিয়ে ভাই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ