অন্যান্য কলকাতা 

সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সাংসদ বিধায়কের সৌজন্য সাক্ষাৎকার বাংলার মানুষ ভালো চোখে দেখছে না/ মোহাম্মদ সাদউদ্দিন

শেয়ার করুন

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন: অটলবিহারী বাজপেয়ী আমলের একটা ঘটনাকে দিয়ে আমার এই প্রতিবেদনটি শুরু করতে চাই।সে সময় সিপিআই(এম) দুই সাংসদ ব্রতীন সেনগুপ্ত (পশ্চিমবঙ্গ) ও আব্দুল্লা কূট্টি (কেরালা) প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে দেখা করতে যান।একজন সাংসদ দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে দেখা করতেই পারেন ।কিন্তু তাদের‌ দেখা করাটা একধিকবার‌ হয়ে যাওয়ার জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ভালো চোখে নেয়নি।দুজনকেই শো-কজ করার পর দল তাদেরকে বহিস্কার করে।ব্রতীন পরবর্তীতে সিপিআইএম থেকে বহিস্কৃত কিছুদিনের জন্য তৃণমূলে যান।পরে বিজেপির প্রতীকে বারাসত লোকসভায় ভোটে দাঁড়ান।কেরালার আব্দুল্লা কুট্টি কংগ্রেসে যোগ দেন।কেরালার ইউডিএফ সরকারের মন্ত্রীও হন। কিন্তু তারপরে তিনি ঐ দলেও থাকতে পারেননি।

বিজয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ করার নামে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও দার্জিলিঙ-এর বিজেপি সাংসদ রাজু ভিস্তি দেখা করতে শিলিগুড়ির এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা অশোক ভট্টাচার্যের বাড়ি গেলেন।যে ধরনের সাক্ষাতকার হোক না কেন, মানুষ কিন্তু এটাকে ভালো চোখে নেবে না।

বুর্জোয়া ডান মতাদর্শভিত্তিক দলের শৃঙ্খলা আর বামপন্হী মতাদর্শভিত্তিক দলের মধ্যে অনেক তফাৎ।এটা কিন্তু বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট অশোক ভট্টাচার্যকে ভাবা দরকার।সারাভারতে সাম্প্রদায়িক শক্তি যেখানে মানুষের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক সেই দলের কোনো‌ বিধায়ক কোন সাহসে তার কাছে যান?এটাও লাখ টাকার প্রশ্ন।

অশোক ভট্টাচার্য অনেক অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান কমিউনিষ্ট নেতা।তার ইতিহাস-প্রজ্ঞা অনেক।বিধানসভাতে তার অনেক বক্তব্য্ মিডিয়া গ্যালারির সাংবাদিকদের ঋদ্ধ করতো।তবুও তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ব্রিটিশ ভারতে কলকাতায় ১৯৪৬ সালের পরিকল্পিত দাঙ্গা ব্রিটিশ-কংগ্রেস -হিন্দুমহাসভার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে যেমন সংগঠিত হয়েছে , অন্যদিকে তেমনি মুসলিম লীগের ডাইরেক্ট অ্যাকশন , তখন পরিকল্পিত এই দাঙ্গার বিরুদ্ধে বুকের পাটা নিয়ে কলকাতায় মিছিল বের করেছেন যে তিন কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা তারা মহম্মদ ইসমাইল , মহম্মদ ইলিয়াস ও এ এম ও গণি।তাদের সঙ্গে দাঁতে দাঁত কামড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন সোমনাথ লাহিড়ী, ও বঙ্কিম মুখার্জি।তবুও দেশভাগ ও বাংলা ভাগ রুখতে পারিনি।’৪৭ পরবর্তী সময়ে একের পর সরকার পরিকল্পিত দাঙ্গা হয়েছে।

‘ ৬৪ সালের পরিকল্পিত দাঙ্গা সব হিসাব পাল্টে দিয়েছিল।কিন্তু সেদিনও কমিউনিষ্ট পার্টির ছাত্র-যুব-শ্রমিক শাখা কলকাতার রাজপথে দাঙ্গা বিরোধী মিছিল বের করেছিল।১৯৬৭ সালে কেন হয়েছিল যুক্তফ্রন্ট? যদিও নিজেদের কলহে সেই সরকারকে বারবার ভাঙনের‌ মুখে পড়তে হয়েছে। আপনি কি এগুলো ভুলে গিয়েছেন অশোকবাবু যে, আপনার নেতা জ্যোতি বসু বলতেন , এরাজ্যে যে দাঙ্গা লাগাবে তার জন্য একটা গুলিই যথেষ্ট।বুদ্ধবাবু বলতেন, এরাজ্যে যে দাঙ্গা লাগাবে তার মাজা ভেঙে দেওয়া হবে।আর গোটা দেশের যারা দাঙ্গাবাজ, মবলিঞ্চিংকারী সেই দলের নেতা-বিধায়ক‌-সাংসদদের সঙ্গে আপনার সৌজন্য সাক্ষাৎ? এক কোন নীতি? আর এস এস-বিজেপি-র ঘোষিত শত্রুতো কমিউনিষ্ট-বামপন্হী-মুসলিম-খ্রিস্টান।তারপরও সৌজন্য সাক্ষাৎ?

@মোহাম্মদ সাদউদ্দিন, কলকাতা,২৬.১০.২০২২


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ