‘গঙ্গা ভাঙন : মানুষের এই গুরুতর সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উচিত যৌথভাবে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহন করা’ বিধানসভায় বললেন পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী
বিশেষ প্রতিনিধি: প্রতিবছর গঙ্গা ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ খুব বেশি হয় বলে মনে হয় না। বরং বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা না করে সাময়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভাঙ্গন রোধের প্রচেষ্টা করতে গিয়ে জনসাধারণের কোটি কোটি টাকা যেমন জলে চলে যাচ্ছে একই রকম ভাবে ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কোন উপকারে আসছে না। গঙ্গার ভাঙ্গন নিয়ে তথ্যচিত্র হয়েছে। প্রতিটা রাজনৈতিক দল ভোটের মুখে গঙ্গার ভাঙ্গন নিয়ে প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর মানুষের কোন উপকার হয় না। আর এ নিয়েই আজ বিধানসভায় সেচ দপ্তরের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক আবেগময় এবং যুক্তিসম্মত বক্তব্য পেশ করেছেন রাজ্য বিধানসভায় একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলের বিধায়ক পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি যা বলেছেন বিধানসভায় তা আমরা হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম :
“আমরা দেখছি ফি বছর বর্ষাকালে এবং বর্ষার শেষে জলস্তর নামতে শুরু করলে গঙ্গার ভাঙ্গনে কিভাবে মালদা ও মুর্শিদাবাদের প্রান্তিক পরিবারগুলি মাথা গোজার ঠাঁই হারান । এবছরও তার কোনও ব্যতিক্রম হয়নি । এবারে বেশ কয়েক দফার ভাঙ্গনে সারশেরগঞ্জ ব্লকে দুশোরও অধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হন ।
গত বছর ভাঙ্গনে সামশেরগঞ্জ ব্লকের বেশ কিছু গ্রাম ও রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের সেকেন্দ্রা এলাকার প্রায় পাঁচশোরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল । যেখানে নদীতীর থেকে ১০০-১৫০ মিটার দূর পর্যন্ত জমি গঙ্গাবক্ষে চলে যাচ্ছে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করেছিল । তাদের এই প্রচেষ্টা হাসির খোরাক ছাড়া আর কিছু নয়।
১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সালের স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে যে গঙ্গা নদী ক্রমাগত পূর্বদিকে সরে আসছে । মুর্শিদাবাদ জেলায় বিগত তিনদশকে কমবেশি ২৫০ বর্গকিমি জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে এবং প্রায় একলক্ষ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ।
Malda District Disaster Planning Book , 2020-2021 তথ্য অনুযায়ী বিগত ৫ বছরে রতুয়া -১ , মানিকচক , কালিয়াচক -৩ , ও ইংলিশবাজার ব্লকের মাত্র ৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০০০০ মানুষ গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । রাজ্যব্যাপী তথ্য দেখলে জানা যাবে শুধু ২০১৯ সালেই ৪৩০০০ মানুষ নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন । এই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ না পর্যাপ্ত ত্রাণ পেয়েছেন না ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন আর না তাদেরকে যথাযথ পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে । মানুষের এরুপ গুরুতর সমস্যা সমাধানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উচিৎ আলোচনা সাপেক্ষে একত্রে পরিকল্পনা গ্রহন করা।
এমতাবস্থায় , মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আবেদন গঙ্গাভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন সহ ভাঙন রোধের জন্য বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন ।”

