কলকাতা 

Indian vice-presidential election 2022:দুপুরে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দেশ থেকে বিজেপি হঠানোর ডাক, বিকেলে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকার ঘোষণা তৃণমূলের, বিজেপি বিরোধিতার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন জনমানষে!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : একুশে জুলাই এর সভা মঞ্চ থেকে বিজেপি বিরোধী সুর চড়া করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সুর মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বদলে গেল। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটদানের উপরে জয় পরাজয় নির্ভর করে না তবুও বিজেপি বিরোধী দল হিসাবে প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব ছিল বিজেপির বিরোধী প্রার্থী মার্গারেট আলফাকে সমর্থন দেওয়া। কিন্তু কোন অজানো কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে কাজটা করলেন না তা নিয়ে ইতিমধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আপ এমনকি শিবসেনার মত দল যেখানে মার্গারেট আলফাকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা প্রায় ৩৫ জন সংসদ কেন সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না ভোট দান করার তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তাহলে মমতার বিজেপি বিরোধীতা কি শুধুমাত্র মঞ্চে? এর মধ্যে কোন আন্তরিকতা নেই! এই প্রশ্ন সাধারন মানুষকে ভাবাচ্ছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কায়দায় রাজনীতি করছেন তাতে হয়তো সাময়িক লাভ তিনি পাচ্ছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আগামী দিনে তার দলের জন্যই বিপদ ডেকে আনছেন। কারণ জাতীয় রাজনীতিতে তিনি এখন এক ঘরে হতে চলেছেন তার নেতৃত্ব নিয়ে, বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই মন এবং মানসিকতা নিয়ে আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী জোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে করতে পারবেন না তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট যশবন্ত সিনহাকে সমর্থন করেছিল দেশের তাবড় তাবড় বিরোধী দলগুলি কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস তা রাজনৈতিক মহল ভেবে উঠতেই পারছে না।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের সভায় যে ভাষায় যে আঙ্গিকে এবং যেভাবে তিনি বিজেপির বিরোধিতা করেছেন তারপরেই বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে যে কায়দায় ভোট দানের বিরত থাকার কথা বলা হলো তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদৌ কি বিজেপির বিরোধিতায় আন্তরিক ? এই প্রশ্নটা এখন বাংলার মানুষের কাছে জ্বলন্ত প্রশ্ন হয়ে সামনে এসেছে। আর এই রাজনীতি করতে গিয়ে আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে বড় খেসারত দিতে হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই ।

আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়টি ঘোষণা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সাংবাদিক সম্মেলনে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ