‘স্বার্থের জন্য আমরা খুন দেখেছি, এমন প্রবণতা রুখতে হবে’’হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তার মধ্যেই ইঙ্গিত ‘বগটুই কান্ড’!
বাংলার জনরব ডেস্ক : রামপুরহাটের তৃণমূলের উপ-প্রধানের মৃত্যুর পর ৮ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা নিয়ে এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ খুললেন। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাধারণত এইসব বিষয় নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করেন না। আবার মুসলমানদের বিষয় হলে তো কথায় বলেন না কিন্তু হঠাৎই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে বেশ কয়েকদিন ধরে খই ফুটছে। যেমন আজ মঙ্গলবার মতুয়াদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষে এক মেলার আয়োজন করা হয়েছে ঠাকুরনগরের। সেই মেলা উদ্বোধন করতে গিয়ে কার্যত রামপুরহাট এর ঘটনা নিয়ে সরব হলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে নেমে আসা কাউকে আক্রমণ এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ‘সংসদীয় গণতান্ত্রিক রীতি পরিপন্থী’ বলে জানিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের কাছে তাঁর বার্তা, ‘‘স্বার্থের জন্য আমরা খুন দেখেছি। এমন প্রবণতা রুখতে হবে।’’

মোদী অত্যাচার এবং অরাজকতা রুখতে সক্রিয় হওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন মতুয়া সমাজের কাছে। সরাসরি নাম না করলেও প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের নিশানা রামপুরহাটের বগটুই হত্যাকাণ্ডের দিকে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। হিংসা এবং অরাজকতা দূর করার পাশাপাশি দুর্নীতির মোকাবিলার কথাও মঙ্গলবার শোনা গিয়েছে মোদীর বক্তৃতায়। বক্তৃতায় সূচনায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ এবং মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর-সহ সমাজের প্রতিনিধিদের বাংলায় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
মতুয়া সমাজের থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন বলেও বক্তৃতায় জানিয়েছে মোদী। পাশাপাশি, মতুয়া ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে মঙ্গলবার ঠাকুরনগরের বারুণীর পুণ্যস্নান অনুষ্ঠান এবং মেলায় ভার্চুয়াল বক্তৃতায় গত বছর বাংলাদেশের ওড়াকান্দি সফরের কথাও বললেন তিনি।
বর্তমানে ভারতীয় সমাজে বিভাজনের অপচেষ্টা চলছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সময়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের দর্শনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি আমরা।’’ নারীশিক্ষা প্রচারে হরিচাঁদের ভূমিকার কথাও এসেছে তাঁর বক্তৃতায়। মোদী বলেছেন, ‘‘আজ আমরা যে লিঙ্গবৈষম্য দেখছি, উনবিংশ শতকে তা দূর করা জীবনের ব্রত করেছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর।’’

