দেশ 

যোগী হাওয়ায় উত্তর প্রদেশে গেরুয়া ঝড়, ৫ রাজ্যের মধ্যে চার রাজ্যে কুরসী দখল বিজেপির

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : কিছু আসন কমলেও যোগীই উত্তর প্রদেশের ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এবারের নির্বাচনে এই রাজ্যের মানুষ যোগী কে ফের ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিলেন। কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে হাতরস উন্নাও এর কোনো প্রভাব পড়লো না এবারের ভোটে। কার্যত যোগীর হাওয়াই খড় কুটোর মত উড়ে গেলো কংগ্রেস বি এস পির মত দল। তবে সমাজবাদী পার্টি কিছু বেশি আসন পেয়ে বিরোধী দল হতে পেরেছে।

বিরোধীদের দাবি ছিল, বিজেপি-র শক্ত ঘাঁটি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে যে সমীকরণের কাঁধে ভর করে বিজেপি-র জয়জয়কার হয়েছিল, সেই ভাগাভাগির রাজনীতিতে লাগাম পরানো গিয়েছে। মূলত যে জাঠ-মুসলিম যুগলবন্দি চুরমার করে দিয়ে গেরুয়া ঢেউ তুলেছিল বিজেপি, কৃষক আন্দোলন তাতে প্রলেপ দেওয়াই শুধু নয়, নতুন করে মজবুত করেছে। বিরোধীদের আরও দাবি ছিল, রাজ্যে বেকারত্ব আর মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ফলায় বিদ্ধ হওয়া অবশ্যম্ভাবী বিজেপি-র। পাশাপাশি, বৃদ্ধ গবাদি পশু থেকে ঠাকুর সম্প্রদায়ের রমরমা, কত তিরেরই না নিশানা ছিল উত্তরপ্রদেশের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের সরকার। কিন্তু বৃহস্পতিবার গণনা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোঝা গেল, বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ এবং দাবিদাওয়ার গঙ্গাপ্রাপ্তি কার্যত সময়ের অপেক্ষা। জীবনের প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়ে বিপুল ব্যবধানে জয় তো আসছেই, সেই সঙ্গে যোগীই যে উত্তরপ্রদেশের জন্য ‘উপযোগী’— তা-ও কার্যত বুঝিয়ে দিল দেশের বৃহত্তম রাজ্যের আমজনতা।

অতএব, ‘বাবা’র বুলডোজারের ধাক্কায় উপুর্যপুরি দ্বিতীয় বার লখনউয়ের তখতের দখল নিশ্চিত বিজেপি-র।

ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতা বলছে, উত্তরপ্রদেশের মহিলাদের ভোট ঢুকেছে বিজেপি-র খাতায়। যার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রতি সপ্তাহে বিনাপয়সার খাদ্যশস্য বন্টন এবং আইনশৃঙ্খলার লক্ষণীয় উন্নতি। এই জোড়া নীতিতেই মহিলাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে বিজেপি-র। পাশাপাশি, হিজাব বিতর্কে উত্তরপ্রদেশের সরকারের ভূমিকাও মহিলা ভোট গেরুয়া শিবিরে টেনে এনেছে বলে দাবি ভোট বিশেষজ্ঞদের একটা অংশের। তারই ফল এমন ঢালাও সমর্থন। উল্টো দিকে, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য ভাবে ভোটদাতাদের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ অখিলেশ-সহ বাকি বিরোধীরা। যদিও সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতারা বলছেন, তাঁরা ভাল লড়াই দিয়েছেন।

তবে বিরোধীরা যে উত্তরপ্রদেশে একেবারে ধূলিসাৎ, তা নয়। বিরোধীদের একমাত্র সান্ত্বনা হল পাঁচ বছর আগের চেয়ে বিজেপি-র আসন সংখ্যা কমে যাওয়া। গত বিধানসভায় বিজেপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা মিলে পেয়েছিল ৩২৫টি আসন। বিজেপি একাই পেয়েছিল ৩১২টি আসন।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ