আনিসের হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যোগ স্পষ্ট হচ্ছে দিন দিন! আমতা থানার ওসি সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে ভবনী ভবনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে,এসপিকে এখনও ক্লোজ করা হয়নি কেন? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের
বাংলার জনরব ডেস্ক : আনিসের হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যোগ দিনদিন স্পষ্ট হচ্ছে। আজ দুজন পুলিশ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ গঠিত সিট এ কথা জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিশেষ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে আমতা থানার ওসিসহ আরো তিন চার জনকে ভবনী ভবনে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।
আনিসের মৃত্যু-রহস্য নিয়ে তদন্ত চলাকালীন মঙ্গলবার সকালেই সাসপেন্ড করা হয় হাওড়ার আমতা থানার দুই পুলিশকর্মীকে। পাশাপাশি বসিয়ে দেওয়া হয় এক জন হোমগার্ডকে। এই তিনজনেরই সে রাতে ডিউটি ছিল। তিনজনেই আমতা থানা এলাকায় টহলদারির দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশের দাবি, ‘তদন্তে স্বচ্ছতার স্বার্থেই’ এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে মঙ্গলবার থানার ওসি এবং আরও এক অফিসারকেও তলব করা হয় ভবানী ভবনে।
সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ কর্মীদের মধ্যে এক জন এএসআই (নির্মল দাস), এক জন কনস্টেবল (জিতেন্দ্র হেমব্রম) রয়েছেন। কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে হোমগার্ড কাশীনাথ বেরাকে (হোমগার্ডদের সাসপেন্ড করার বিধি নেই)। তিন জনই শুক্রবার রাতে থানার খাতায় সই করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে রাউন্ডে বেরিয়েছিলেন। ওই রাতেই আমতার সারদা দক্ষিণ খাঁ-পাড়ায় বাড়ির তিনতলার ‘ছাদ থেকে পড়ে’ মৃত্যু হয় ছাত্রনেতা আনিসের। তাঁর পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়, পুলিশের পোশাকে চার জন সে রাতে বাড়িতে ঢোকেন। আনিসকে তাঁরাই ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার সঙ্গে মঙ্গলবারের সাসপেনশনের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সাসপেন্ড করা তিন পুলিশকর্মী ছাড়াও, চতুর্থ এক ভিলেজ-পুলিশেরও খোঁজখবর চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। ভবানী ভবনে ডাক পাওয়া সিভিক পুলিশই ওই রাতের চতুর্থ ভিলেজ-পুলিশ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। চতুর্থ ভিলেজ-পুলিশের ব্যাপারে এমনিতেও খোঁজ চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা।
এ থেকে স্পষ্ট হয়েছে আনিস খান হত্যার সঙ্গে পুলিশ কোনো না কোনো ভাবে যুক্ত এবং ঐদিন রাতে সত্যিই পুলিশ গিয়ে ছিল আনিসের বাড়িতে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এতদিন ধরে হাওড়া গ্রামীণ এর এসপি কোনো পুলিশ গিয়েছিল কিনা স্পষ্ট বার্তা দিলেন না কেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি সঠিকভাবে তদন্ত করতে হয় তাহলে প্রথমেই হাওড়া গ্রামীণ এসপিকে ক্লোজ করতে হবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে। কারণ এসপির নির্দেশ ছাড়া কোন দিন কোন সময় কোন মুহূর্তে রাতের অন্ধকারে গভীর রাতে কারো বাড়িতে পুলিশ যেতে পারে না এটা সহজ এবং স্বচ্ছ জলের মতো সত্য। একথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোভাবেই জানেন। তা সত্ত্বেও কেন হাওড়া গ্রামীণের এসপিকে ক্লোজ করা হচ্ছে না তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে আমতা থানার ওসিকে কেন এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

