যারা তৃণমূলকে ভোট দেবে না তাদের জন্য ‘দুয়ারে প্রহার’ শুরু হবে বিতর্কিত মন্তব্য উদয়ন গুহর, রাজ্য রাজনীতি উত্তাল
বাংলার জনরব ডেস্ক : একদিকে বিজেপির অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দলের মধ্যেই যেন বিতর্ক থামছে না। কয়েকদিন আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তা নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন দলের যাবতীয় কাজকর্ম তিনি প্রতিদিন দেখবেন।
রাজ্য রাজনীতিতে জোর কদমে যখন এই ধরনের প্রচার চলছে অন্যদিকে বিজেপিতে চলছে ঘর রক্ষা করার সংগ্রাম এক কথায় বলা যেতে পারে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে ফের রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠল উদয়ন গুহর মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি কোচবিহারের দিনহাটায় এক সভায় বলেছেন যারা তৃণমূলকে ভোট দেবেন না তাদের জন্য দুয়ারে প্রহার প্রকল্প চালু করা হবে। উদয়ন গুহর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে,রবিবার দিনহাটার ৯ নম্বরে ওয়ার্ডে এক জনসভায় গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক হুমকির সুরে বলেন, যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেবেন না তাঁদের জন্য ‘দুয়ারে প্রহার’ প্রকল্প চালু হবে।
ফেব্রুয়ারি মাসেই কোচবিহার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাগুলিতে ভোট। তারই প্রচারে যান উদয়ন। এদিকে, তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি।
এই বিষয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিরাজেন্দ্র কুমার বসু বলেন, “”গতকাল রাতে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক একটি প্ররোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। যার সারমর্ম, সরকারে দুয়ারে সরকার প্রকল্পের ধাঁচে তিনি দুয়ারে প্রহার – এই প্রকল্প চালু করে যাকে যেভাবে শায়েস্তা করার, তা করবেন। তাঁর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। পশ্চিমবঙ্গ তোলপাড় হয়ে গিয়েছে। উনি একজন জনপ্রতিনিধি এবং কোচবিহার জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান। উনি যদি এমন প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখেন, তাহলে মানুষ কি শান্তিতে থাকতে পারে? কোচবিহারের মানুষ গুলির শব্দে ঘুমোতে যায়, বোমার শব্দে জেগে ওঠে।”
জনসভায় উদয়ন বলেন, “পুরুষদের উদ্দেশে একটা কথা কিন্তু পরিষ্কারভাবে বলি, সুযোগ নিয়েছেন সরকারের। মিছিল মিটিংয়ে মুখও দেখাচ্ছেন কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় অন্য কিছু ভাবছেন, তা কিন্তু হবে না। আমরা অনেককে সরকারিভাবে না পারলেও বেসরকারিভাবে নারায়ণের ভাণ্ডারের সুযোগ দিয়েছি। আর এই নারায়ণের ভাণ্ডাড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে তাহলে তাঁর জন্য একটা নতুন প্রকল্প শুরু করা হবে–দুয়ারে প্রহার, সেই কথাটা জেন মাথায় থাকে।”

