জেলা 

ভোট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই গ্রেফতার হুমায়ুন! লাভ কার!?

শেয়ার করুন

মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিন সকালে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ সম্পর্কে বিরত মন্তব্য করেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি নেতা হুমায়ুন কবীর। এর কিছুক্ষণ পরেই তাকে বাড়ি থেকে আটক করে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ সবের মাঝে রেজিনগরে হুমায়ুনের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে যায় পুলিশ। বাহিনী সেখানে পৌঁছোতেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা। সেখানেও পুলিশের উদ্দেশে হুমায়ুন বলতে থাকেন, “দালালি করবেন না, দালালি করবেন না।” পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তিও হয়। শেষে জামা ধরে টানতে টানতে হুমায়ুনকে গাড়িতে তোলেন পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

হুমায়ুনের দাবি, মঙ্গলবার সকাল থেকেই রেজিনগরে তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তা নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েও পুলিশকে নিশানা করেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়েও পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “প্রত্যেকটা বুথে অ্যালসেশিয়ান ছেড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।”

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা বাহিনীকে বিঁধে বলেন, “পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব না কি!” রেজিনগরবাসীকে ‘মুগুর নিয়ে’ রুখে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন। “পুলিশ ধোয়া তুলসিপাতা না কি! শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ ভোটের নামে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেবে? আমাদের ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেও শান্তি হয়নি। আজ সকালে পুলিশ যে ধরনের আচরণ করছে, মানুষকে বলব এদের বিরুদ্ধে মুগুর নিয়ে দাঁড়াতে। পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব না কি?” বলেন হুমায়ুন।

এর পরে তিনি চলে যান নিজের দলীয় কার্যালয়ে। হুমায়ুন সেখানে পৌঁছোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের একটি দলও পৌঁছোয় সেখানে। বাগ্‌বিতণ্ডা পর্ব শেষে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচীন মক্কর জানিয়েছেন, হুমায়ুন উপনির্বাচনের প্রার্থী নন, তিনি এজেন্টও নন। তাই তিনি এ ভাবে ঘুরতে পারেন না। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর বেশ কয়েকদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারী এবং পুলিশকে আক্রমণ করে আসছিলেন কিন্তু কেন ভোটের দিনে তাকে গ্রেফতার করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।হুমায়ুনকে গ্রেফতার ভোটের দিনে আখেরে কার লাভ করতে চাইছেন সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।

রেজিনগরের পাশাপাশি এ দিন উপনির্বাচন চলছে নন্দীগ্রামেও। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রেজিনগরে ১৮.০৫ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ২০.৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ