ধর্ষণ মামলায় নিজের বাবাকে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়েছিলেন চিকিৎসককে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের জালে তরুণী
ধর্ষণের মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে একের পর এক ফাঁদ পেতেছিলেন কলকাতায়। ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ও করেছেন অনেকের কাছ থেকে। এ বার সেই তরুণী ধরা পড়লেন পুলিশের হাতে। সন্তোষপুরের বাসিন্দা রাগেশ্রী গোপ নামে ৩১ বছর বয়সি ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পঞ্চসায়র থানা। তদন্তে উঠে এসেছে, অতীতে অন্তত ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার ১১টি ভুয়ো মামলা করেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, রাগেশ্রী নামের ওই তরুণী নিজেকে মডেল বলে পরিচয় দিতেন। অতীতে নিজের বাবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন তিনি। গত জানুয়ারিতে পঞ্চসায়রের বাসিন্দা এক দন্ত চিকিৎসককেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে তরুণীর বিরুদ্ধে। ওই দন্ত চিকিৎসকের সন্তোষপুরের চেম্বারে গিয়েছিলেন রাগেশ্রী। তার পর থেকেই চিকিৎসকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা শুরু করেন তিনি। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দিতে থাকেন।
পরবর্তী সময়ে তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হন ওই চিকিৎসক। জামিনে মুক্তির পর চিকিৎসকের স্ত্রী সরাসরি আলিপুর আদালতে মামলা করেন। অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। ঘটনার যথাযথ তদন্তের আর্জি জানান তিনি। এই অবস্থায় আদালত পঞ্চসায়র থানাকে এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। পুলিশি তদন্ত উঠে আসে, ওই মহিলা মিথ্যা মামলা করেছিলেন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। টাকা চেয়ে ধারাবাহিক ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে এ-ও দেখা যায়, বিপদের আঁচ পেয়ে পূর্ব যাদবপুর থানায় এমন মিথ্যা মামলার সম্ভাবনার কথাও আগাম জানিয়ে রেখেছিলেন চিকিৎসক।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাগেশ্রী আগেও একই ভাবে অনেককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন বা ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। অন্তত ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার ১১টি ভুয়ো মামলা করেছেন তিনি। যাঁদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত দু’জন রাগেশ্রীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। তদন্তে দেখা গিয়েছে, সার্ভে পার্ক, রবীন্দ্র সরোবর, কসবা, রিজেন্ট পার্ক, যাদবপুর এবং গল্ফগ্রিন এলাকায় এই ধরনের ফাঁদ পেতেছিলেন রাগেশ্রী। কখনও ফাঁদে ফেলেছেন অটোচালককে, কখনও চিকিৎসককে, তো কখনও আবার জিম মালিককে। ২০২১ সালের অক্টোবরে নিজের বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাঁকেও জেলে পাঠিয়েছিলেন তরুণী। তদন্তের সূত্র ধরে সন্তোষপুরের বাড়ির সামনে থেকেই গ্রেফতার করা হয় তরুণীকে।
সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।

