আইনের রক্ষকদের উপর হামলা আর বরদাস্ত করা হবে না, কড়া পদক্ষেপর হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পুলিশকে আক্রমণ, আইনের রক্ষকদের উপর হামলা আর বরদাস্ত করা হবে না। সোমবার পার্ক সার্কাস থেকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, তাঁর সরকারের আমলে এটাই পুলিশের উপর প্রথম আক্রমণ এবং এটাই শেষ। এর পর কোনও পুলিশকর্মীর গায়ে আঘাত হানলে আইন অনুযায়ী যত দূর যেতে হয়, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তিনি যাবেন। পাশাপাশি, রবিবার বুলডোজ়ার চালানোর প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার দুপুরে অশান্ত হয় পার্ক সার্কাস চত্বর। রাজ্য সরকারের বুলডোজ়ার ‘নীতি’র প্রতিবাদে নামেন কয়েকশো মানুষ। তাঁদের রাস্তা থেকে পুলিশ সরতে বললে শুরু হয় অশান্তি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করে প্রথমে। অন্য দিকে, পুলিশ জানায় অতর্কিতে তাদের উপর ইটবৃষ্টি হয়। ভাঙচুর করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি। পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল বাহিনী নামে।

ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শুভেন্দু। সোমবার দুপুরে তিনি চলে গিয়েছিলেন পার্ক সার্কাসে ডিসি অফিসে। পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কয়েক মিনিট পর বেরিয়ে আসেন। শুভেন্দু জানান, তিনি একাধারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, আবার পুলিশমন্ত্রীও। রবিবার যে ভাবে পুলিশ পরিস্থিতি সামলেছে, তা প্রশংসনীয়। কয়েক জন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান জখম হয়েছেন। তাঁদের খবরাখবর নিতে এসেছিলেন। তার পর ওই বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘যে কোনও রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠন পুলিশকে জানিয়ে তাদের কর্মসূচি করতে পারে। কিন্তু মানুষ জড়ো করে ধর্মীয় স্লোগান দেওয়া, পাথর ছোড়া… কাশ্মীরে, শ্রীনগরে পুলিশকে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে, আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতাতেও এ বার বন্ধ হবে।’’
আহত পুলিশকর্মী এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের নাম পড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কতটা জখম হয়েছেন দেখলাম। আমাদের পুরো বাহিনী গতকাল যে ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেছে, বড় অঘটন ঘটতে দেয়নি, মানুষজনকে বাঁচিয়েছে, তাদেরও আমি সাপোর্ট দিতে এসেছিলাম। বলেছি, সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আপনারা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী, ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করবেন। আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বদা আপনাদের পাশে রয়েছে। নগরপালের নেতৃত্বে পুরো দল রয়েছে।’’
তার পরে নির্দেশের সুরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি আবেদন করব, এই কাজগুলো আর করবেন না। যদি মনে করে থাকেন, আগের সরকার আছে, আগের নিয়ম আছে, পুলিশফোর্সকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তা হলে কিন্তু ভুল করবেন। তাই ‘ক্লিয়ার মেসেজ’ দিচ্ছি, এই ধরনের অশান্তি, গুন্ডামিতে ‘জ়িরো টলারেন্স’। অ্যান্টি ন্যাশনাল, অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি চালাতে দেব না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘হোম মিনিস্টার হিসাবে আমি লাস্ট ওয়ার্ড বলে গেলাম, একটা পুলিশের গায়ে যদি হাত পড়ে, এই সরকার তার জন্য আইন প্রয়োগ করে যত দূর যেতে হয় যাবে। শুধু অ্যারেস্ট (গ্রেফতার) নয়, কনভিকশন (দণ্ড) করানো পর্যন্ত ক্লোজ় মনিটরিংয়ের দায়িত্ব আমাদের হাতে থাকবে। আর পুলিশের বন্ধুদের বলব, আপনাদের প্রশিক্ষণের সময় যা বলা হয়েছে, বিএনএস যা বলে, আপনাদের ঊর্ধ্বতন যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করবেন।’’
পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে যে কোনও রাজনৈতিক দল, তিনি কোনও ধর্ম, কোন সম্প্রদায়ের তা না দেখে আইন মেনে পদক্ষেপ করতে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অ্যাকশন নিতে গেলে যেন পাঁচ বার না ভাবতে হয় পুলিশকে।’’ পার্ক সার্কাস-কাণ্ডে অভিযুক্তদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘আপনারাও কান খুলে শুনে নিন, এটাই শেষ ঘটনা। এর পর এমন ঘটনা ঘটতে দেব না। এর পর এমন ঘটনা যদি ঘটান, আমার থেকে খারাপ কোনও পুলিশমন্ত্রী হবে না।’’
পার্ক সার্কাসের অশান্তির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী খোঁচা দেন পূর্বতন সরকারকে। তিনি বলেন, ‘‘আগে পুলিশের হাত-পা বাঁধা ছিল। এখন তারা স্বাধীন। আইনের রক্ষক আইন মেনে কাজ করবেন।’’ অন্য দিকে, যদি সাধারণ মানুষের পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ক্ষোভ থেকে থাকে, সেটাও আইন মেনে তাঁদের লিখিত ভাবে জমা দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ওসি, আইসি-র কাছে জানান। ওসি, আইসি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ডিসি-র সঙ্গে দেখা করুন। ডিসি-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে লালবাজারে যান। না হলে মেল করুন। সিপি-র বিরুদ্ধে কিছু বলার থাকলে নবান্নে চিঠি পাঠান। আমরা দেখব। কিন্তু হাতে পাথর তুলে নেওয়া, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে গন্ডগোল করা পশ্চিমবঙ্গে আর চলবে না।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ছ’মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন তাঁরা।

