পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকও তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল! বাংলায় কাজ বন্ধ, এবার মমতার কী হবে?
সেখ ইবাদুল ইসলাম : আগামী ২৩ এপ্রিল ও ২৯ শে এপ্রিল দুই দফায় এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হওয়ার কথা। আর এই ভোট গ্রহণের সময় রয়েছে মাত্র চার দিন। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক এই রাজ্য থেকে তাদের কাজকর্ম বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছে। আগামী ২০ দিন আর কোন কাজ এ রাজ্যে বসে তারা করবে না সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আইপ্যাক এর কর্মীদের কাছে শনিবার গভীর রাতে ইমেইলে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে পরামর্শদাতা সংস্থার এই সিদ্ধান্তে খানিকটা হতচকিত হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর অনুগামীরা এই ঘটনায় অনেকটাই চিন্তায় পড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য গতকাল শনিবার কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত IPAC এর দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল সেই বৈঠকে রাজ্যের প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ডাকা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরে গভীর রাতে ইমেইল বার্তার মাধ্যমে সমস্ত কর্মীদেরকে আগামী ২০ দিন ছুটি দেয়া হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। বলা হয় আগামী ১১ ই মে এই সকল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে সংস্থা এবং তাদের পরবর্তী কাজকর্ম দায়িত্ব দেয়া হবে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অংশ থেকে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে ভোট পর্যন্ত এই সংস্থাটি এই রাজ্যে কাজ করবে তা বাড়ি থেকে হোক বা অন্য কোথাও থেকে হোক।

এদিকে নির্বাচন প্রচার চলাকালীন সময় এবং প্রথম দফার ভোটগ্রহণের কয়েকদিন আগে যেভাবে আইপ্যাক সংস্থা নিজেদেরকে নির্বাচনী ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করল বা কর্মীদেরকে সরিয়ে নেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তাতে যে তৃণমূল কংগ্রেস সংকটে পড়বে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কারণ আমরা সকলেই জানি এই আইপ্যাক সংস্থাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতটাই ক্ষমতাধর করে তুলেছিল যে এরা আইএএস আইপিএসদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ক্ষমতার অলিন্দে ছড়ি ঘোরাতেন যেটা এক কথায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাছে অপমানজনক। কিন্তু তারপরেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বেসরকারি সংস্থাকে কার্যত নবান্নের অধীশ্বর করে তুলেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত কয়েক মাস ধরে নামমাত্র প্রশাসক ছিলেন প্রশাসন টাকে চালাচ্ছিল এই আইপ্যাক। ভোটের মুখে তাদের চলে যাওয়াটা বা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাটা কার যত তৃণমূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল বলে রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ মনে করছে।
তবে এটাও হতে পারে হয়তো আইপ্যাক নিজেদেরকে সরিয়ে নিলেও তারা গোপনে তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করবে কিন্তু এখানে সন্দেহটা দানা বেধেছে। বেশ কয়েক বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করার পর হঠাৎ ভোটের কয়েকদিন আগে কেন তাদের সরে যাওয়ার ঘোষণা। নেপথ্যে অন্য কোন বড় ডিল কাজ করছে? কার্যত গভীর সমুদ্রে ঝড় তুফানরত নৌকা ছেড়ে দিয়ে যদি মাঝি পালিয়ে যায় তার যা অবস্থা হবে ঠিক সেই অবস্থায় পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় আইপ্যাক এর পর কিভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে আগামী কয়েক দিন সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। নাকি তৃণমূলের নৌকা ডুবে যাচ্ছে বলে সবাই পালিয়ে যাচ্ছে আসলে কি ঘটতে চলেছে তা জানাবো আমরা আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে।

