মমতার এস আই আর ধন্য মঞ্চে পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখালো প্যারা টিচাররা! এরপর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বাংলার জনরব ডেস্ক : এসআইআরে (SIR) নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই ধর্নামঞ্চে হঠাৎ হাজির হয়ে যায় প্যারা টিচারদের (Para Teacher) সংগঠন। বেতন পরিকাঠামো, স্থায়ীকরণ-সহ একাধিক দাবিতে পোস্টার নিয়ে ধর্নামঞ্চের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন প্যারা টিচারদের সংগঠনের সদস্যরা। শান্তিপূর্ণ ধর্না চলাকালীন হঠাৎ এমন ঘটনায় হকচকিয়ে যান সেখানে উপস্থিত মানুষজন। পরিস্থিতি দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
মূলত বেতন কাঠামো সংশোধন-সহ একাধিক দাবি লেখা পোস্টার নিয়ে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চের সামনে উপস্থিত হন প্যারা টিচারদের সংগঠনের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিছু হাতে লেখা পোস্টার, কিছু ছাপানো পোস্টার উঁচু করে দেখান তাঁরা। একটি পোস্টারে লেখা ‘১৫ বছর ক্ষমতা পেলে প্যারা টিচারদের রইলে ভুলে’। আবার অন্য এক পোস্টারে লেখা ‘২২ বছরের শিক্ষকতায় দিন কাটে মোর ভিক্ষা ভাতায়’। ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত সকলেই চমকে যান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ধর্নামঞ্চ থেকেই বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা রাজনীতি করার সময় নয়। বিজেপির কথায় এসব দয়া করে করবেন না। জায়গাটা খোলামেলা আছে বলে এটা ভাববেন না যে যা ইচ্ছে তাই করা যাবে। যে কোনও মানুষ এখানে আসতে পারেন, সম্মান নিয়ে আসুন। এটা কারও কোনও দাবি তোলার জায়গা নয়। এখানে যারা এসেছেন শান্তভাবে থাকতে পারলে থাকবেন। এটা একমাত্র এসআইআরের ও ভোটাধিকারের দাবি। অন্য কোনও ব্যক্তিগত দাবি নয়। রাজনীতি করবেন না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চাইলে অন্য জায়গায় নিয়ে তো বিক্ষোভ দেখাতে পারতেন। যান মোদিকে নিয়ে দেখান, অমিত শাহকে গিয়ে দেখান।” এরপর সুর নরম করে তিনি বলেন, “আমি পুলিশকে বলব ওদের আস্তে আস্তে কোনও জায়গায় বসিয়ে দিন।”
এরপরেই বিক্ষোভকারীদের ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া একজন বলেন, “আমরা প্যারা টিচার। আমরা কোনও রাজনীতি করার জন্য আসিনি। আমরা দিদির কাছে দাবি নিয়ে এসেছি। পোস্টারে লিখেছি, দিদি আমাদের বাঁচান। ১০-১২ হাজার টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলছে না। আমরা কোনও রাজনৈতিক দল নই। আমাদের দাবি বেতন কাঠামো।” পুলিশ গাড়িতে তুললে তাঁর মন্তব্য, “পুলিশে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কী দোষ করেছি অন্যায় করেছি আমরা জানি না।”

