আন্তর্জাতিক 

বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার মাঝে নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তানের দুটি উপদূতাবাস বন্ধ করে দিল মার্কিন প্রশাসন

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকরা এবং ইসরাইলি নাগরিকরা, শিয়া সম্প্রদায়ের আক্রোশের শিকার হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১৪ টি মুসলিম দেশে আমেরিকার নাগরিকরা যেমন নিরাপদ নয় একই রকম ভাবে ইসরাইলের নাগরিকরাও নিরাপদ নয়। কারণ আয়তুল্লা আলী খামেনিকে অনৈতিকভাবে হত্যা করার পর সমগ্র বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মনে যে আঘাত লেগেছে তার বহিঃপ্রকাশ যেকোনো সময় যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে। এই কলঙ্কের ইতিহাস থেকে কোনদিনই আমেরিকা ও ইসরাইল বেরিয়ে আসতে পারবে না।

এদিকে আমরা সকলেই জানি পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের হাতে বেশ কয়েকটি মার্কিন উপদূতাবাস আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় কুড়ি জনকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রশাসন মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ কমেনি বরং তা আরো বেড়েছে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানের দুটি উপ দূতাবাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল আমেরিকা।

Advertisement

বুধবার মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে করাচি এবং লাহৌরে থাকা দু’টি উপদূতাবাসের ওই কর্মীদের পাকিস্তান ছাড়তেও বলা হয়েছে। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাসের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়‌েছে, জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কর্মীরা লাহৌর এবং করাচির উপদূতাবাস ছাড়ুন। সে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তগত ঝুঁকির বিষয়ে সবিস্তার কিছু জানানো হয়নি। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে করাচির ঘটনা প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বিক্ষোভ বা হামলার ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়েছিল পড়শি দেশ পাকিস্তানের করাচিতে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খামেনেইয়ের ছবি হাতে বেশ কয়েক জন জড়ো হন করাচির মার্কিন উপদূতাবাসের বাইরে। তাঁদের মুখে ছিল আমেরিকাবিরোধী স্লোগান। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে উপদূতাবাসের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ আটকাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপদূতাবাসের কিছু জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। গত রবিবার করাচিতে মার্কিন উপদূতাবাসের সামনে তৈরি হওয়া ওই বিক্ষোভ সামাল দিতে গুলি চালিয়েছিল পুলিশও। তার পরেই জানা যায়, ১০ জনের প্রাণ গিয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ