ইফতার মজলিশে আলাপচারিতা : পবিত্র কোরআন পড়ে আপনার অনুভূতি
পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় দশকের শুরুতে রবিবার ইফতার গ্রহণের পূর্বে সুন্দর এক বৈকালিক আসর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নিউটাউন এলাকার হাতিয়াড়ায়। ইফতার সহ আলাপচারিতার এই আসরে মিলিত হয়েছিলেন ছোটদের সঙ্গে বড়রাও। আলোচনার বিষয় ছিল ‘পবিত্র কোরআন পড়ে আপনার অনুভূতি’।
পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসের সুন্দর সাবলীল ব্যাখ্যা উঠে আসে এই আসরে। বিভিন্ন বক্তারা বলেন, রমজান মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এই মাসে নাযিল হয় পবিত্র কোরআন। এজন্যই এই মাসকে কোরআনের মাস বলা হয়। পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে শুধুমাত্র তেলাওয়াত করার জন্য নয়, এটা এসেছে বুঝবার জন্য, নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে জানার জন্য, অপরের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। এটি এসেছে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সমাজে শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও শান্তি কিভাবে আসতে পারে, তার রূপরেখা একদিকে আঁকা হয়েছে পবিত্র কোরআনে; অপরদিকে বিশাল এই সৃষ্টির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রহস্য উন্মোচনে বিশেষ দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে ঈমানদার মানুষদেরকে। একজন ঈমানদার মানুষ পারেন সমগ্র জাতির জন্য নৈতিকতা পূর্ণ উন্নতির রাস্তা দেখাতে। এটাই একজন ঈমানদারের কাছে পবিত্র কোরআন দাবি করে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে রমজান মাসের রোজা আসলেই মানুষকে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত করতে চায়। আর, তাকওয়া বা খোদাভীতি যাঁদের মধ্যে উন্মেষ ঘটবে, তাঁরা অবশ্যই একদিকে যেমন নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে ইস্পাতের মতো দৃঢ় হবেন, অপরদিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রকৃত উন্নতির রাস্তাটিকেও চিহ্নিত করতে সামর্থ্য হবেন। তাকওয়া একজন মানুষের ভেতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্ম দেয়। যখন কেউ বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি কাজ এক সর্বশক্তিমান সত্তা পর্যবেক্ষণ করছেন, তখন সে লোভ, লালসা বা সাময়িক মোহের কাছে নতিস্বীকার করে না।

সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকে, এমনকি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে একজন অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে।
অনেকে মনে করেন তাকওয়া বুঝি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্তরায়। কথাটি প্রকৃতপক্ষে উল্টো। কারণ তাকওয়া মানুষকে শেখায় সত্য অনুসন্ধান করতে; মিথ্যে বা ভাসা-ভাসা নয় বরং মৌলিক বা সত্যের অনুসন্ধান করতে। এটাই তো বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।
একজন তাকওয়াবান ব্যক্তি আসলেই সৃজনশীল হন তার কাছ থেকেই মেধার সঠিক ব্যবহার আশা করা যেতে পারে, যা প্রকৃত মানবকল্যাণে কাজে লাগে। পবিত্র কুরআনে বারবার আকাশ, পৃথিবী এবং প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন মুত্তাকী ব্যক্তি এই নির্দেশনা পাওয়ার পর সুন্দর সৃষ্টিশীল সমাজ নির্মাণে তাঁর ভূমিকার কথা ভাবতে শুরু করেন, এই সৃষ্টিজগতের পরতে-পরতে আল্লাহর নিদর্শণ দেখে আরও গভীর গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হন।
‘কোরআন পড়ে আমাদের অনুভূতি’ শীর্ষক এই আলোচনায় ইফতারের পূর্বে এবং পরবর্তী কিছু সময়ে বিভিন্ন পেশার গুণী জনদের মাঝে ছাত্র-ছাত্রী ও ছোটদের উৎসাহে ভরা অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

