মার্কিন জনতার ৭৩ শতাংশ মানুষ ইরানের উপর হামলার বিরোধী জনমত সমীক্ষায় উঠে এলো এই তথ্য, ট্রাম্পের গদি টলমলো
বাংলার জনরব ডেস্ক : ইরানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা কিন্তু আমেরিকার জনতা কী বলছে? শুনলে অবাক হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে হুংকার দিয়ে এরা আক্রমণ করেছিলেন তা কিন্তু মেনে নিচ্ছে না আমেরিকার জনতা। মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ মনে করছে ইরানের উপরে ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা করে সঠিক কাজ করেছেন। আর বাকি ৪৩% মানুষ মনে করছেন ঠিক কাজ করেননি। ফ্রিজ শতাংশ মানুষ কোন পক্ষেই কথা বলছেন না। অঙ্কের বিচারে যদি আমরা ধরে নেই ৭৩ শতাংশ মানুষ আমেরিকার মানুষ ইরানের উপর হামলা চাইছে না। তা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা চালাচ্ছেন এর ফলে কি হবে এর ফলে ট্রাম্পের গদিতে টান পড়তে পারে। এটা আমেরিকা জুড়ে সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেকেও ইরানের হামলার সিদ্ধান্তকে মানতে পারছেন না।
গত শনিবার ইরানে যৌথ ভাবে হামলা চালায় আমেরিকা (US Strikes Iran) এবং ইসরায়েল। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষনেতার। এই আবহে একটি সমীক্ষা করেছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। রবিবার পর্যন্ত এই অনলাইন সমীক্ষা চালানো হয়। অংশ নেন আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তের ১,২৮২ জন। তাতে দেখা গিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ২৭ শতাংশ ইরানে মার্কিন হামলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ। আর ৩০ শতাংশ নীরব ছিলেন।

শুধু ইরান নয়, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশেও সম্প্রতি সামরিক অভিযানের পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্প। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই বিষয়টি নজরে রেখে অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ শতাংশ মনে করছেন, আমেরিকার স্বার্থরক্ষায় সামরিক অভিযানেই বেশি আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যাঁরা এই মতামত দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটের সংখ্যাই ৮৭ শতাংশ। ২৩ শতাংশ রিপাবলিকানও এই মত সমর্থন করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের দলের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, মার্কিন সেনার ক্ষতি হলে তাঁরা ইরানে হামলাকে সমর্থন করবেন না। প্রসঙ্গত, ইরানে হামলায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে রবিবার স্বীকার করেছে আমেরিকা।
ইরানে আমেরিকার হামলা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত ভাবে বিক্ষোভ হয়েছে রবিবারই। হোয়াইট হাউসের বাইরে এবং টাইমস স্কোয়ারে কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। দাবি, মার্কিন কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখে ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং ইরান আক্রমণ করেছেন। যদিও খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আমেরিকার ইরানি নাগরিকদের মধ্যে উল্লাস দেখা গিয়েছে।

