কলকাতা 

জগদীপ ধনকড়ের মত অবস্থা হবে আপনার জ্ঞানেশ কুমারকে বলে এলেন মমতা

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে বিজেপির এজেন্ট এ পরিণত হয়েছে এ কথা বহুবার দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন সেই কথার সঙ্গে কোন সময়ই সঠিকভাবে সহমত প্রকাশ করেননি, পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গতকাল তিনি নিজে গিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর সঙ্গে ১৫ জনের প্রতিনিধি ছিল ১২ জন এসআইয়েরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন।

আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগে থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই জন্য আলোচনা শুরুতেই একের পর এক নানা প্রশ্ন বানে জ্ঞানেশ কুমারকে বিদ্ধ করতে থাকে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া এবং সংবাদপত্রের খবরের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এস আই আর এর অপরিকল্পিত ব্যবস্থা নিয়ে সরব হন।

Advertisement

মমতা প্রশ্ন তোলেন, প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এখনও অনেকে হাসপাতালে, তাঁদের দায় কে নেবে? এ হেন নানা প্রশ্নেই জ্ঞানেশ ‘উদ্ধত’ আচরণ করেন বলে দাবি তৃণমূলের।

এর পর দু’তরফের কথা এবং উত্তাপ দুই-ই বাড়তে থাকে বলে খবর। কেন অসমে এসআইআর হচ্ছে না, পশ্চিমবাংলাতেই কেন ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র তালিকা প্রকাশ, কেন মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ— এ হেন একের পর এক প্রশ্ন মমতা করতে থাকেন মমতা। পয়েন্ট ধরে প্রশ্ন করতে থাকেন অভিষেকও। সূত্রের এ-ও খবর, মাঝে মাঝে কল্যাণ আইনি বিষয়গুলি তুলে ধরেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেন। শাসকদলের প্রথম সারির নেতৃত্বের বক্তব্য, এই পর্বেই কমিশনের তরফে একাধিক বার বলা হতে থাকে ‘আরে ছোড়িয়ে না (আরে ছাড়ুন না)!’’ কিন্তু তৃণমূল থামেনি, ছাড়েওনি। একের পর এক প্রশ্নবাণ ধেয়ে যায় জ্ঞানেশের দিকে। অকুস্থলে থাকা ‘এসআইআরের ফলে’ মৃতের পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘‘সেই সময়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, আপনাদের (মমতা-অভিষেকদের) কথা শুনব কেন?’’ এর পরেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ক্রুদ্ধ মমতা।

বের হওয়ার সময় রীতিমতো ক্ষুব্ধ মমতা জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে বলেন,জগদীপ ধানকড় এর মত অবস্থা হবে আপনার। কারণ উনি যখন পশ্চিমবাংলার রাজ্যপাল ছিলেন ঠিক তখন প্রতিদিন লক্ষ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা সরকারকে আক্রমণ করতেন তার পরিণতি আজ জলের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। এই কথাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল জানিস জ্ঞানেশ কুমারের সামনে বলে আসতে পেরেছেন।

এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এত সাহস একজন কোথা থেকে পান পাবলিক সার্ভেন্ট! কারণ তিনি নিরপেক্ষ একটি সাংবিধানিক সংস্থা। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতি তার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। তাদের কথা তাকে শুনতে হবে। তাদের অসুবিধাগুলো দেখতে হবে জনগণকে হেনস্তা করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। এটা মাথায় রাখতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে লক্ষ্য করে এ কথা কোনোভাবেই বলতে পারেন না নির্বাচন কমিশনার আপনার কথা শুনবো কেন? শুধুমাত্র এই কথাটি বলার জন্যই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা উচিত বলে আমরা মনে করি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভুলটা করেছিলেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তালে তাল নামিয়ে তারই পরিণতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ভুগতে হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষা কোনদিনই হবে না কারণ তিনি কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ সেটা নির্ধারণ করতে পারেন না। রাজনৈতিকভাবে সাফল্য এলে সেই সাফল্যকে ধরে রাখার যে কৌশল করতে হয় সেটাও তিনি জানেন না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদীর সঙ্গে সেটিং করতে গিয়ে কার্যত নিজের দলকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিয়েছেন। তাই দিল্লিতে তিনি এখন বন্ধু হারা কারণ তিনি নিজে থেকেই নানা ভাবে জাতীয় দল কংগ্রেসকে চটিয়ে রেখেছেন যেটা তার মত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের পক্ষে করা উচিত হয়নি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ