কলকাতা 

বাংলায় তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করতে গিয়ে‘‘ভোটারদের প্রতি তো বটেই, গণতন্ত্রের প্রতিও অবিচার হচ্ছে’’ অভিমত অমর্ত্য সেনের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নির্বাচন কমিশন জে এস আই আর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলায় বা করছে তা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। নবতিপর অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘‘ভোটারদের প্রতি তো বটেই, গণতন্ত্রের প্রতিও অবিচার হচ্ছে।’’

জানুয়ারির শুরুতে প্রবাসী অমর্ত্য নিজেও এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। সম্প্রতি বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘অযথা তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হচ্ছে। ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে, তা প্রমাণ করার জন্য নথি জোগাড় করার পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত নেই। এটি ভোটারদের জন্য তো বটেই, ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিও অন্যায়।’’ অমর্ত্যের কথায়, ‘‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ অবশ্যই যত্ন সহকারে এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরিচালনা করা উচিত। অথচ, বঙ্গে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে সে রকম পরিস্থিতি নেই।’’

Advertisement

নোবেলজয়ী বলেন, ‘‘পর্যাপ্ত সময় নিয়ে, সাবধানতার সঙ্গে ভোটার তালিকার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে তা ঘটছে না।’’ এ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন তিনি। অমর্ত্য বলেন, ‘‘আমার নিজের নির্বাচনী এলাকা শান্তিনিকেতন থেকে ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অথচ সেখান থেকে আমি আগেও ভোট দিয়েছি। আমার নাম, ঠিকানা-সহ যাবতীয় বিবরণ সরকারি রেকর্ডে নথিভুক্ত রয়েছে। এর পর তারা আমার জন্মের সময় আমার মায়ের বয়স কত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ একজন স্বতন্ত্র ভোটার হিসাবে আমার মায়ের তথ্যও সরকারি রেকর্ডে সংরক্ষিত ছিল।’’ অর্থনীতিবিদের মতে, নথিপত্রে এ ধরনের সমস্যা তাঁর একার নয়। বরং গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেরই এ ধরনের সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, গ্রামে অনেক নাগরিকেরই জন্মশংসাপত্র ছিল না। ফলে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে এখন তাঁদের নানা নথিপত্র দেখাতে হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন গরিব ও প্রান্তিক মানুষেরা।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ