কলকাতা 

২৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক কর্মী সংগঠনের

শেয়ার করুন

স্মৃতি সামন্ত, কলকাতা : আগামী ২৭শে জানুয়ারি ভারতজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ৯টি সংগঠনের সম্মিলিত মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (UFBU)। ৫ দিনের কর্ম সপ্তাহ কার্যকর করা এবং মাসের প্রতিটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণার দাবিতে এই আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি, বিদেশি, গ্রামীণ এবং সমবায় ব্যাংকের প্রায় ৮ লক্ষ কর্মচারী ও কর্মকর্তা শামিল হবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় ব্যাংক কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই ধর্মঘট।

এই ইউনিয়ন ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি সুদীপ দত্ত বলেন,ধর্মঘটের মূল কারণ হল ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) এবং UFBU-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, সোমবার থেকে শুক্রবার দৈনিক কাজের সময় ৪০ মিনিট বাড়ানো হবে এবং বিনিময়ে সব শনিবার ছুটি দেওয়া হবে। এই সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানো হলেও গত দুই বছর ধরে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে একই দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হলে সরকারের সক্রিয় বিবেচনার আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ইউনিয়নগুলো পুনরায় কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।

Advertisement

প্রেসিডেন্ট সুমিত নন্দীর অভিযোগ, আর্থিক খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেমন আরবিআই (RBI), এলআইসি (LIC), জিআইসি (GIC) এবং এমনকি শেয়ার বাজার ও সরকারি দপ্তরগুলোতে ৫ দিনের কর্ম সপ্তাহ অনেক আগে থেকেই চালু আছে। ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে শুধুমাত্র দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি থাকে। কর্মীদের দাবি, এই বৈষম্য অযৌক্তিক। আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এটিএম পরিষেবার যুগে শনিবার ছুটি থাকলে গ্রাহকদের বড় কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে এআইবিইএ (AIBEA), এআইবিওসি (AIBOC), এনসিবিই (NCBE) সহ ৯টি প্রভাবশালী ইউনিয়ন। ব্যাংক অফিসার ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকার তাদের দাবি উপেক্ষা করায় এই ধর্মঘট তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য জনসাধারণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে তারা এই ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ২৭ তারিখের এই ধর্মঘটের ফলে সারা দেশে ব্যাংকিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ